আমরা সরকার না বিরোধী দলের অংশ? বি. চৌধুরীর কাছে প্রশ্ন যুক্তফ্রন্টের শরিকদের

378

নির্বাচনের পর যুক্তফ্রন্টের কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয়তা কেন, জোটের প্রধান ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে পষ্ট করতে বলেছে শরিকরা।শুক্রবার রাজধানীর ট্রপিক্যাল মোল্লা টাওয়ারে যুক্তফ্রন্টের বৈঠকে এ অবস্থান জানতে চাওয়া হয়।
যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিকল্পধারা মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান, প্রেসিডিয়াম সদস্য শমসের মবিন চৌধুরী, যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়কারী গোলাম সারোওয়ার মিলন, বিএলডিপি চেয়ারম্যান নাজিমউদ্দিন আল আজাদ, এনডিপি চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, যুগ্ম-মহাসচিব আতিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ মুকিত, মহাসচিব এ এন এম সিরাজুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট প্রধান সংগঠক আবু লায়েস মুন্না, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান হামদুল্লাহ আল মেহেদী, বাংলাদেশ জনদল মহাসচিব সেলিম আহমেদ, বাগসদ সভাপতি সরদার শামস আল মামুন প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে জোটের শরিক দলের নেতারা বি. চৌধুরীর কাছে জানতে চান- এখন যুক্তফ্রন্টের রাজনৈতিক অবস্থান কি? আমরা সরকার না বিরোধী শিবিরের অংশ? নির্বাচনের পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকারের বিভিন্ন সমস্যা, কৃষক-শ্রমিকদের সমস্যা ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে যুক্তফ্রন্ট কি করেছে বা কি করা উচিত ছিল?

যুক্তফ্রন্টের শরিক দলের এক নেতা পরিবর্তন ডটকমকে জানান, নির্বাচনের আগে জোট আলোচনায় ছিল। ভোটের পর কার্যক্রম নেই। বলা চলে চুপসে গেছে।তিনি এজন্য ক্ষমতা ভোগকে সামনে আনেন, ‘মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান ও মাহী বি. চৌধুরী- দু’জনই নৌকা প্রতীকে এমপি হয়েছেন। তারা বিকল্পধারার নেতা। ফলে ক্ষমতার মোহেই জোটের চেয়ারম্যান বি. চৌধুরী জনগণের অধিকার বিষয়ে কথা বলতে পারছেন না।’যুক্তফ্রন্টের শরিক ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা বৈঠকে প্রশ্ন রাখেন, যুক্তফ্রন্টের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কি? অবস্থান কোথায়? নৌকা মার্কায় দু’জন এমপি বানালেই কি যুক্তফ্রন্টের রাজনীতি শেষ হয়ে যাবে?
অন্য শরিক জেবেল রহমান গানির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (বাংলাদেশ ন্যাপ) মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়াও এমন একাধিক প্রশ্ন বৈঠকে রাখেন।

কিন্তু, তাদের কোনো প্রশ্নেরই উত্তর দিতে পারেননি বি. চৌধুরী।
পরে বৈঠকের বিষয়ে গোলাম মোস্তফা ভুইয়া পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যুক্তফ্রন্টের মূল্যায়ন স্পষ্ট নয়। উপজেলা নির্বাচন নিয়েও আমরা অন্ধকারে ছিলাম। আর বিগত ৬ মাসে সরকারের নানা ভুল ও দুর্নীতি নিয়ে দলগতভাবে কথা বললেও জোট নীরব। সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রত্যাশার জায়গা যুক্তফ্রন্ট স্পর্শ করতে পারেনি।’
তিনি বলেন, ‘রূপপুরের দুর্নীতি, কৃষক ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, পাট শ্রমিকদের মজুরি না পাওয়া, নতুন করে গ্যাসের মূ্ল্যবৃদ্ধির পায়তারা চলছে। অথচ আমরা নীরব। তাহলে এই জোটের রাজনীতিটা করে কি লাভ? আমরা চেয়ারম্যানের কাছে এসবের জবাব চেয়েছি। আমরা মনে করি, জবাব না এলে আর জোটের রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা আর থাকবে না।’
এমএইচ/আইএম