ইরানে হিজাব না পরে ট্যাক্সিতে ওঠা নিয়ে নানা কাণ্ড! | সংবাদ

24

স্টাফ রিপোর্টার: হিজাব না পরে এক নারীর ট্যাক্সিতে ওঠা নিয়ে ইরানে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ট্যাক্সিতে একজন নারী হিজাব না পরায় চালক মাঝ রাস্তায় তাকে নামিয়ে দেন। এ নিয়ে দেশটির অনেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী স্ন্যাপ নামে জনপ্রিয় ট্যাক্সি অ্যাপটি বন্ধের দাবি জানিয়েছিল। তবে এমন ঘটনায় উভয়পক্ষই ক্ষমা চেয়েছে। খবর বিবিসির।
ঘটনার শুরুতে রাস্তা থেকে নামিয়ে দেয়ায় ওই নারী টুইটারে ট্যাক্সি চালকের ছবি দিয়ে লেখেন এই সেই চালক যিনি মাঝ রাস্তায় আমাকে ট্যাক্সি থেকে নামিয়ে দেন।
নারী অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে এমন দাবি করে কয়েকজন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী অ্যাপটি বয়কটের হুমকি দেন।
গত শনিবার ফার্সি ভাষায় হ্যাশট্যাগ ‘বয়কট স্ন্যাপ’ চালু করা হয়েছে। শনিবার থেকে এ পর্যন্ত ৬৬ হাজার বারের বেশি ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে হিজাবের বিরুদ্ধে কোন প্রকার বিক্ষোভ বা প্রতিবাদের ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্ক করার পর বিষয়টি থেকে সরে আসে প্রতিবাদকারীরা। এমন কোনো বিক্ষোভে অংশ নিলে ১০ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে বলে দেশটির পুলিশ সতর্ক করে দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ওইনারী তার প্রথম টুইটটি সরিয়ে নিয়ে এমন ঘটনার জন্য ক্ষমাও প্রার্থনা করেন।
পরবর্তী টুইটে তিনি বলেন, আমি স্ন্যাপ কোম্পানি, চালক এবং যারা এই ঘটনা শুনে কষ্ট পেয়েছেন তাদের সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।
দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল জানিয়ে ওই নারী বলেন, আমি ঘোষণা করছি আমি আমার দেশের আইন মানতে বাধ্য।
শুরুতে আলোচিত ওই নারীর কাছে স্ন্যাপ নামের ওই অ্যাপ কোম্পানিটিও ক্ষমা চেয়েছিল। অভদ্র ব্যবহারের কারণে চালককে কড়া ভাবে শাসানো হবে বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে তাকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।
তবে দেশটির রক্ষণশীলরা স্ন্যাপের এমন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে বলছে যারা ইসলামী মূল্যবোধকে সম্মান জানাতে পারে না তাদের সামনে মাথা নত করা উচিত না।
টুইটারে একজন লেখেন, ওই নারীর অশালীন আচরণের জন্য যদি কোম্পানির ম্যানেজার ক্ষমা চেয়ে থাকে তাহলে স্ন্যাপ অ্যাপ বন্ধের পাশাপাশি তাদের ইসলামিক প্যানেল কোডে বিচার করা উচিত। কারণ তিনি চালককে শাসানোর মাধ্যমে নারীদের অশালীনতাকে উস্কে দিয়েছেন।
হিজাব না পরার কারণে ট্যাক্সি থেকে নামিয়ে দেয়ার ব্যাখ্যা দিয়েছেন আলোচিত ওই ট্যাক্সিচালক।
একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাতকারে ঐ চালক সায়িদ আবেদ বলেছেন হিজাব ছাড়া ওই নারী যাত্রীকে দেখলে পুলিশ তার থেকে জরিমানা নিতো।
ধর্মীয় দায়িত্ববোধ থেকেই এমন কাজ করেছেন বলে জানান তিনি।
প্রথমে সতর্ক করা হলেও পরে শাসানোর জন্য স্ন্যাপ কোম্পানি ঐ চালকের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। কোম্পানীটি এক বিবৃতিতে জানায়, এখন থেকে চালক তাদের কোম্পানিতে সানন্দে কাজ করতে পারেন।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের কর্তৃপক্ষ দেশটিতে নারীদের জন্য হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করে। সূত্র যুগান্তর