‘আজ মানুষ যত ভালো আছে, এত ভালো কি কোনো দিন ছিল?’

‘আজ মানুষ যত ভালো আছে, এত ভালো কি কোনো দিন ছিল?’

শেখ হাসিনার আমল ছাড়া অন্য কারো আমলে বাংলাদেশ এত ভালো ছিল না উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, ৭৫ পরবর্তীকালে শেখ হাসিনার আমল ছাড়া অন্য কারো আমলে বাংলাদেশ এত ভালো ছিল না। শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশ বেটার দ্যান বিফোর।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে অনেক সরকার এসেছে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর। জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ করেছে। ওয়াদা করেছে, ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। গণতন্ত্রের নামে গণতন্ত্রের মুখোশ পরা বর্ণচোরা।
আজ শনিবার দুপুরে আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের ভুল-ত্রুটি আছে। আমরা দেশ পরিচালনা করি, ভুল-ত্রুটি আমাদের থাকতেই পারে। তবে আমরা দেশটাকে যত ভালো চালিয়েছি এবং চালিয়ে যাচ্ছি, এ দেশকে যা দিয়েছি এবং দিয়ে যাচ্ছি তা অন্য কেউ বঙ্গবন্ধুর পর দিতে পারেনি। তারা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন করেছে। আর শেখ হাসিনা এ দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করার জন্য ক্ষমতায় আছেন এবং তিনি জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের জন্যই অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন, বলেন কাদের।

তিনি আরও বলেন, একটু চিন্তা করে দেখেন বড় বড় কথা যারা বলে, চার দিকে আজ যা অবস্থা, বিশ্ব বাজারে যে সংকট, প্রবৃদ্ধির সংকট, জ্বালানি—এসবের জন্য সাংঘাতিক সংকটের মধ্যে দিয়ে চলছে বিশ্ব। আমাদের প্রতিবেশী পাকিস্তানের অবস্থা দেখুন, শ্রীলঙ্কার অবস্থা দেখুন। তুলনা করে দেখুন। আজ বাংলাদেশের মানুষ যত ভালো আছে, এত ভালো কি কোনো দিন ছিল ৭৫ এর পর?
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা করে কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল আমাদের গণতন্ত্রের ছবক দেন। এ পদ্মা সেতু হয়ে গেছে প্রায় বলতে হবে। অল্প দিনের মধ্যে উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, শতভাগ সততার সঙ্গে পদ্মা সেতুর কাজ করেছি। পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রজেক্টে আমরা কারো কাছ থেকে এক টাকা ঋণ নিইনি। কোনো বিদেশি ঋণ ছাড়াই আমরা নিজস্ব অর্থায়নে শেখ হাসিনার সাহসের সোনালি ফসল পদ্মা সেতুর কাজ শেষ করেছি। আমরা ঋণ খেলাপি নই। বাংলাদেশে ৭৫ পরবর্তীকালে সব সরকারই ঋণ খেলাপি আওয়ামী লীগ ছাড়া। আওয়ামী লীগ যে খাতে এনেছে, ঋণের কিস্তি যথা সময়ে পরিশোধ করেছে। অন্যরা দেশকে ঋণগ্রস্ত করেছে। ঋণের টাকা পরিশোধ করেনি। ফখরুল সাহেব, আপনারা ছিলেন ঋণ খেলাপি।

এ দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক কাঠামো-প্রতিষ্ঠান বারবার ধ্বংস করেছে বিএনপি। তাদের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সংবিধান, সেনা আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধান, সব প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতাকে ধ্বংস করে দেয়। আর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যায় মদদ দিয়ে…সেদিন যে দুঃসাহস খুনীরা করেছে, জিয়াউর রহমান সঙ্গে না থাকলে এ রকম বর্বর ঘটনা ১৫ আগস্ট হতে পারতো না। এই হত্যাকাণ্ডের মধ্যে খুনীদের প্রশ্রয় দিয়ে, পুরস্কৃত করে জিয়াউর রহমান এ দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কর্ম সম্পর্কে অলঙ্ঘনীয় দেয়াল তুলেছে, কর্ম সম্পর্কে অলঙ্ঘনীয় দেয়াল সৃষ্টি করে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার পথকে রুদ্ধ করে দিয়েছে—বলেন কাদের।

বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে কাদের বলেন, আপনি কী ধরনের গণতন্ত্রে বিশ্বাসী? সংসদে আপনাদের কয়েকজন সংসদ সদস্য আছে। অবলীলায় কথা বলে। যা খুশি তা বলে। প্রধানমন্ত্রীসহ এই সরকারকে গালিগালাজ করে। বাইরে আপনারা করেন, ভেতরে আপনাদের সদস্যরা করে। তার জন্য কাউকে খেসারত দিতে হয়নি, কারো মুখ বন্ধ করেনি স্পিকার। আপনি নিজে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যান না অথচ বিএনপির অন্য সদস্যরা সংসদের যান। আপনি সংসদ বর্জন করেছেন, এটা কোন গণতন্ত্র? গণতন্ত্রের নামে এই দ্বিচারিতা আপনি নিজেই তো করছেন। গণতন্ত্রের প্রতি তাহলে আপনার আস্থাটা কোথায়? অবৈধ ক্ষমতা দখলকে বৈধতা দেওয়ার অভিপ্রায়ে ১৯৭৭ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান হ্যাঁ-না ভোটের আয়োজন করেন। তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি কার সৃষ্টি? বহুদলীয় গণতন্ত্র নাকি বহুদলীয় তামাসা?

‘আওয়ামী লীগ ছদ্মবেশী একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়’, বিএনপি মহাসচিবের এ ধরনের বক্তব্য শুনলে জনগণের হাসি পাওয়ার কথা। জনগণ দেখেছে, বিএনপি এক দিকে ভোটে আসে না। আবার নির্বাচিত হয়েও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদে যান না। বিএনপি নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে সোচ্চার। তাহলে কীভাবে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা হলো? বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রের মুখোশের আড়ালে যা করেছিল তা ভুলে যায়নি বাংলাদেশের মানুষ। তাদের ছদ্মবেশী বহুদলীয় গণতন্ত্র ছিল বহুদলীয় তামাসা। আমরা সেই তামাসার গণতন্ত্রে আমরা বিশ্বাস করি না। আমরা জনগণের শক্তিতে আস্থাবান, আমাদের শক্তির উৎস বাংলাদেশের জনগণ। পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও সে রকম হবে। নির্বাচন ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার করার জন্য দরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা। তখন সরকারের কোনো ভূমিকা থাকবে না। সরকার শুধু নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে বিভিন্ন সহায়তা করবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন সব থাকবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। সরকারের অধীনে কিছুই থাকবে না। আমরা বিএনপিকে অনুরোধ করবো নির্বাচনে আসুন, বলেন কাদের।

তিনি আরও বলেন, আসলে শেষ পর্যন্ত গাধা ঘোলা করে পানি খায়। আপনারা আসবেন কিন্তু পানি ঘোলা করে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে লাভ নেই। বাংলাদেশ একটি ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশানের দিকে যাচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net