বাংলাদেশে গুম নিয়ে এবার জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্ট

বাংলাদেশে গুম নিয়ে এবার জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্ট

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে (ইউএনএইচআরসি) চলতি বছর বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এ পরিষদের গুমসংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপ ডব্লিউজিইআইডি (ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এনফোর্সড অর ইনভলান্টারি ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সেস)। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়েছে।
ইউএনএইচআরসির ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, ওয়ার্কিং গ্রুপ এ বছর তিন সেশনে অনুষ্ঠিত ঘরোয়া বৈঠকে বিভিন্ন দেশে সংঘটিত নতুন–পুরোনো গুমের ঘটনা এবং এ–সংক্রান্ত পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করেছে। এর বাইরে সাধারণ অন্যান্য অভিযোগও পর্যালোচনা করেছে তারা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও গুম–খুনের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং তাঁদের ও সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের ভিত্তিতে ওই পর্যালোচনার কাজটি সম্পন্ন করেছে ওয়ার্কিং গ্রুপ।

মানববন্ধনে ‘গুম’ হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনেরা। জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা, ২৮ মে
মানববন্ধনে ‘গুম’ হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনেরা। জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা, ২৮ মেছবি: প্রথম আলো
সরাসরি সাক্ষাতে ওয়ার্কিং গ্রুপ গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজন ও সংশ্লিষ্ট অন্য প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুম বিষয়ে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও সংগৃহীত তথ্য বিনিময় করেছে। পরে গ্রুপ লিখিতভাবে বিভিন্ন দেশের সরকারকে তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
ওয়ার্কিং গ্রুপের ১২৫তম অধিবেশন শেষে তৈরি করা প্রতিবেদনে বাংলাদেশের গুম পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। গত ২০ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর ওয়ার্কিং গ্রুপের ওই বৈঠক হয়। গত ৬ ডিসেম্বর এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন হালনাগাদ করেছে ওয়ার্কিং গ্রুপ। হালনাগাদ প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে যা বলা হয়েছে:

মানববন্ধনের ব্যানারে লেখা ছিল ‘গুম বন্ধ কর, গুমের শিকার ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দাও’
মানববন্ধনের ব্যানারে লেখা ছিল ‘গুম বন্ধ কর, গুমের শিকার ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দাও’ছবি: প্রথম আলো
সাধারণ অভিযোগ

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ বলেছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ভিন্নমতাবলম্বীদের নিশানা করতে গুমকে অব্যাহতভাবে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে। গুমের এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে।

১.
গুমের শিকার হওয়া থেকে প্রত্যেক ব্যক্তির সুরক্ষাসংক্রান্ত ঘোষণার (ডিক্লারেশন অন দ্য প্রটেকশন অব অল পারসনস ফ্রম এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স) লঙ্ঘন ও এ ঘোষণা বাস্তবায়নে বাংলাদেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ বিষয়ে বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য পেয়েছে ওয়ার্কিং গ্রুপ।
২.
এ সাধারণ অভিযোগ অবশ্যই ২০১১ সালের ৪ মে, ২০১৬ সালের ৯ মার্চ, ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ও ২০১৯ সালের ২২ মে বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠানো অভিযোগগুলোর অতিরিক্ত হিসেবে বিবেচনায় নিতে হবে। এখনো পর্যন্ত এসব অভিযোগের কোনো জবাব দেওয়া হয়নি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে যেমন সাড়া পাওয়ার অভাব ছিল; তেমনি বাংলাদেশে সফরের অনুরোধে সাড়া না পাওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। ২০১৩ সালের ১২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত জবাব দেওয়া হয়নি, যা আরও বেশি অস্বস্তির। মনে রাখা দরকার, যত অভিযোগ পাওয়া গেছে, এর সবই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এসব সংস্থা ও বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা অন্য ভিন্নমতাবলম্বীদের নিশানা করার জন্য বারবার ও অব্যাহতভাবে গুমকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net