হতাশ রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত, বিপক্ষে গেলে বাংলাদেশকে মিগ-২৯ এর যন্ত্রাংস দেবেনা রাশিয়া

হতাশ রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত, বিপক্ষে গেলে বাংলাদেশকে মিগ-২৯ এর যন্ত্রাংস দেবেনা রাশিয়া

ইউক্রেন আক্রমণের কারণে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে গোটা পশ্চিমা বিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া ও আফ্রিকার অধিকাংশ দেশই রাশিয়ার বিপক্ষে।

কিন্তু চীন, ভারত, বাংলাদেশ এক্ষেত্রে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে।
জাতিসংঘে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত থাকার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তার কূটনৈতিক অবস্থান জানায়।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর স্পষ্ট বিভক্তির মধ্যে বাংলাদেশের জন্য একটি পক্ষ নেয়া নানা কারণে চ্যালেঞ্জের এবং এক্ষেত্রে দেশটি অনেকটা উভয় সংকটে। বিবিসির আবুল কালাম আজাদ জানাচ্ছেন কেন বাংলাদেশের এই উভয় সংকট।

বাংলাদেশ সেনাবাহীনির জন্য কেনা মিগ-২৯ একমাত্র আধুনিক বিমান যার স্পেয়ার পার্টস বিক্রি করে রাশিয়া।রাশিয়ার বিপক্ষে কোন বিবৃতি দিলে রাশিয়া বাংলাদেশকে এসব যন্ত্রাশ দেয়া বন্ধ করে দিতে পারে।একই সাথে বাংলাদেশে রুপপুর পারোমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রাশিয়া প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে, একই সাথে প্রকল্পের বাস্তবায়নের দায়িত্বেও তারাই রয়েছে।এসকল প্রক্লপের কাজ থমকে যেতে পারে।

একই সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্ব বাংলাদেশের কাছ থেকে স্পষ্টত রাশিয়ার বিরুদ্ধে কিছু শুনতে চাইছে। পশ্চিমারাও প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পোষাক আমদানি করছে।এছাড়াও পশ্চিমা বিভিন্ন দেশে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী অভিবাসী রয়েছে।
এই অবস্থায় দুটি পরাশক্তিকে একই সংগে খুশি রাখা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে।

আলেকজান্ডার ভি মানতিতস্কি রাশিয়ার পদক্ষেপ নিয়ে করা বাংলাদেশি গণমাধ্যমের সংবাদ পক্ষপাতমূলক বলে অভিহিত করেন।

রুশ-ইউক্রেন সংঘাতে বাংলাদেশি গণমাধ্যমের ভূমিকায় হতাশ রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত

রোববার বাংলাদেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক, রেডিও ও টিভি চ্যানেলের প্রধানদের কাছে দেয়া একটি খোলা চিঠিতে তিনি বলেন, আমি ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কিছু বাংলাদেশি গণমাধ্যমের ‘পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি’কে সেই প্রচেষ্টার ফল বলে মনে করি যারা সর্বদা রাশিয়া ও বাংলাদেশের সহযোগিতার সম্পর্ক নষ্ট করতে চায়। যা ৫০ বছর আগে থেকেই শুরু হয়েছিল।

এ সময় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ১৯৭১ সালের কথা মনে করিয়ে দিয়ে লেখেন, বাংলাদেশিরা তখন ভারত ও তৎকালীন ইউএসএসআর-এর সক্রিয় সমর্থনে পাকিস্তানি শাসকদের উৎখাত করেছিল।

মানতিতস্কি বলেন, পূর্ব ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চলের রুশভাষী জনগণ বিগত ৮ বছর যাবত তাদের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করে আসছিল। কিন্ত এ সময় তারা কিয়েভ সরকারের দ্বারা গণহত্যার শিকার হয়েছে। তাই রাশিয়া তাদের মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে দিতে ও ভাষার কারণে নির্যাতন যাতে না ঘটে সেটি নিশ্চিত করতে এগিয়ে এসেছে।

রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, আমি আশা করি আমার খোলা চিঠির মাধ্যমে আপনার পাঠকরা ইউক্রেনের পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গির সাথে পরিচিত হতে সক্ষম হবেন। এই চিঠিটি ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’র পেছনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বাংলাদেশি পাঠকদের একটি ধারণা দেবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net