বাংলাদেশের মধ্যে বগুড়ার দই বিখ্যাত কেন? এটা কীভাবে তৈরি হয়?

বাংলাদেশের মধ্যে বগুড়ার দই বিখ্যাত কেন? এটা কীভাবে তৈরি হয়?

বাংলাদেশ এর মধ্যে বগুড়ার দই যে অন্যতম তা বলার অপেক্ষা রাখে না।বিভিন্ন দই এর মধ্যে রয়েছে -*শ্যামলী, আকবরিয়া, মহরম আলী, সাউদিয়া, আরডিএ, শম্পা, জলযোগ, বৈকালী প্রভৃতি বগুড়ার উল্লেখযোগ্য দই। এবং প্রত্যেকটা দইয়ের স্বাদই যেন অনন্য একটা অনুভুতি দেই।বগুড়া শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে শেরপুর উপজেলা। দেশভাগের সময় কালে এসে এখানে বসতি শুরু করেন “গৌরগোপাল ঘোষ”। অতি কষ্টে জীবন যাপন করতে হলেও তার ছিল অনন্য স্কিল; দই বানানো। শুরু হল জীবনসংগ্রাম। দই নিয়ে হেঁটে হেঁটে বগুড়া শহরে এসে বিক্রি শুরু করলেন গৌরগোপাল ঘোষ”। দইয়ের সঙ্গে সরভাজাও পাওয়া যেত তার কাছে। দিনে দিনে পণ্যগুলো এতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে, জমিদারবাড়িতেও এই খবর পৌঁছে যায়। শুরু হলো জনমনে দইয়ের অভিষেক। বগুড়া জেলার সরকারি ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলীর বাবা নবাব আলতাফ আলী চৌধুরীর পৃষ্ঠপোষকতায় ঘোষ পরিবার এই দই সার্বিক উন্নয়ন এবং উৎপাদন করেন। মোহাম্মদ আলীর বাড়ি  ছিল বগুড়া।

 

অনেকেই ধারণা করেন বগুড়ার দইয়ের বয়স আড়াইশো বছর। আজকের বগুড়ার দইয়ের যে সুখ্যাতি, তা ঘোষ পরিবারদের হাত ধরেই যে শুরু হয়েছিল, তা বলা যায়। তবে এখন দই এর ব্যবসা অনেকেই করছেন। অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বগুড়ায় দই তৈরি ও বাজারজাত করছেন।

কার কাছে এই দই জনপ্রিয় নয়? ব্রিটেনের রানী এলিজাবেথ এই দইয়ের স্বাদ নিয়েছেন। সামরিক স্বৈরাচার আইয়ুব খান ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মন পাবার জন্য এই দই উপহার পাঠিয়েছিলেন। ১৯৩৮ সালে বাংলার গভর্নর স্যার জন এন্ডারসন বগুড়া এসেছিলেন। ইনি আপ্যায়নে বগুড়ার দই খেয়ে এতই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে তিনি এই দই ইংল্যান্ডে রপ্তানি করার জন্য পরিকল্পনা নিয়েছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net