প্রচারণায় ছিলেন শুধু স্ত্রী, কারাগারে থেকেও নৌকার প্রার্থীকে হারিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হলেন তুফান

প্রচারণায় ছিলেন শুধু স্ত্রী, কারাগারে থেকেও নৌকার প্রার্থীকে হারিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হলেন তুফান

গত ২৬ ডিসেম্বর দেশের বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সকল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীদের সঙ্গে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও অংশ গ্রহণ করেছে। তবে এবার অনেক ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীরা সুবিধা করতে পারেনি। এমনকি কারাগারে থেকেও নৌকার প্রার্থীকে হারিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হলেন তুফান। তার সম্পর্কে এবার বিস্তারিত জানা গেল।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর মামলা দিয়ে কারাগারে বন্দি করা হয় অধ্যক্ষ নুর মোহাম্মদ তুফানকে। কারাগারে বন্দি থেকেই নির্বাচন করেন তিনি।

কারাগারে বন্দি থাকার কারণে প্রচার-প্রচারণা, মাইকিং করতে না পারলেও সকল প্রার্থীকে হারিয়ে বিপুল ভোটে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জয় লাভ করেছেন তিনি। বর্তমানে কারাগারে বন্দি আছেন তিনি।
গত ২৬ ডিসেম্বর উপজেলার ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি ৮ হাজার ১৬৫টি ভোট পান। নৌকার প্রার্থী শফিকুর রহমান শফিক পেয়েছেন ৫ হাজার ৪২৮ ভোট। আর বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন পলাশ আনারস প্রতীকে ৫ হাজার ৪৪৫ ভোট পেয়েছেন।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক নির্বাচিত চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ তুফান বাউসা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।
তার জায়গায় উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শফিকুর রহমান শফিককে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। এটি মেনে নিতে না পেরে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন তিনি।

অভিযোগ আছে, তুফান বিদ্রোহী হিসেবেও প্রার্থীতা তুলে না নেওয়ায় গত ৪ ডিসেম্বর গভীর রাতে তার টলটলিপাড়ার বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালায় বাড়িতে ভাঙচুর চালায় উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। ডাকাত সন্দেহে তাদের ধরে গ’ণ’পি’টু’নি দেয় এলাকাবাসী। পরদিন ৫ ডিসেম্বর সকালে মামলা করতে বাঘা থানায় গেলে পুলিশ তুফানকেই গ্রেফতার করে। পরে তাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। আদালত কয়েকদফা তার জামিন নামঞ্জুর করেন। ভোটের আগে তুফানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তার বাড়িতে বেশ কয়েকবার হা’ম’লা’র ঘটনা ঘটে। প্রচার-প্রচারণার জন্য মাইকিং নিয়ে বের হলেই ভা’ঙ’চু’র করা হয়। তবে তুফানের স্ত্রী রোজিনা তার পক্ষে একাই প্রচারণা চালিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত এলাকার মানুষ বিপুল ভোট দিয়ে তুফানকে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী করেছেন।

এদিকে, ওই বিদ্রোহী প্রার্থী কারাগারে থাকার পরও তিনি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে। তার এই বিজয়ের পর অনেকে বলছেন তিনি ব্যাপক জনপ্রিয় তাই নির্বাচনে জয়ী হতে পরেছেন। তবে এখনো তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ উঠেছে তার জন্য তাকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net