জয়নাল হাজারীর প্রতি সম্মান দেখানোর কী আছে,বেচেঁ থাকতেও সমাবেশ করতে দেয়নি,মরেও সমাবেশ বন্ধ করলো:বিএনপি নেতা

জয়নাল হাজারীর প্রতি সম্মান দেখানোর কী আছে,বেচেঁ থাকতেও সমাবেশ করতে দেয়নি,মরেও সমাবেশ বন্ধ করলো:বিএনপি নেতা

বাংলাদেশের এক সময়ের দাপুটে একজন নেতার নাম জয়নাল হাজারি।একটা সময়ে তিনি পরিচিত ছিলেন মাফিয়া বা ক্যাডার হিসেবে। করতেন আওয়ামীলীগের রাজনিতী। তবে সেই জয়নাল হাজারি আর নেই।গতকাল রাতে মারা গেছেন তিনি। এ দিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল হাজারীর মৃত্যুতে তার প্রতি সম্মান জানিয়ে ফেনীতে পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশ স্থগিত করেছে বিএনপি। তবে এ নিয়ে এখন চলছে বেশ আলোচনা সমালোচনা।

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার দাবিতে মঙ্গলবার বিকেলে ফেনী শহরের শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কের ওয়াপদা মাঠে সমাবেশটি করার কথা ছিল বিএনপির।
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল সমাবেশ স্থগিত করার কথা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জয়নাল হাজারীর জানাজা মঙ্গলবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে শহরে। সে কারণে তার প্রতি সম্মান জানিয়ে সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে।

শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে গতকাল সোমবার মারা যান জয়নাল হাজারী।
একসময় বিরোধী দল বিএনপির কাছে রাজনৈতিক গডফাদার হিসেবে পরিচিত ছিলেন জয়নাল হাজারী।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলেও তিনি দীর্ঘদিন ফেনীতে যাননি। প্রায় এক যুগ পর ২০২০ সালের ১৫ আগস্ট জয়নাল হাজারী ফেনীতে তার বাসভবনে যান।

সেদিন তিনি সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
তখন তিনি বলেছিলেন, বিএনপি সব সময় তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছিল। তাদের নানা সভা-সমাবেশে বাধা দেয়ার বিষয়টিও সেদিন আলোচনায় আনেন আলোচিত এই রাজনীতিবিদ।

এমনকি তিনি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সে এলাকায় কোনো খুনের ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেন।
জয়নাল হাজারীর সম্মানে বিএনপির সভা স্থগিত করার বিষয়টি সোমবার থেকেই জেলার রাজনৈতিক সমালোচকদের কাছে আলোচিত হচ্ছে।
অবশ্য বিএনপির জনসভা স্থগিত করা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন দলের অনেক নেতা-কর্মী।
ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের বিএনপি নেতা নুরনবী বলেন, ‘জয়নাল হাজারী মারা যাওয়ার পরও গডফাদারই রয়ে গেলেন। বিএনপির জনসভা স্থগিত। জয়নাল হাজারী দোর্দণ্ড প্রতাপের সময়ও বহু সভা-সমাবেশ পন্ড করে দিয়েছেন। আজ সে পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ল।’

একই ইউনিয়নের নিজাম উদ্দিন নামের এক কর্মী বলেন, ‘জয়নাল হাজারীর প্রতি সম্মান দেখানোর কী আছে? যার জন্য জনসভা স্থগিত করতে হবে। জয়নাল হাজারী মানে খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই। জয়নাল হাজারী আবারও বিএনপির কাছে গডফাদার হিসেবে আবির্ভূত হলো।’
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, ‘সমাবেশে লক্ষাধিক নেতা-কর্মীর সমাগম হওয়ার কথা ছিল। আসার কথা ছিল বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ দলের অঙ্গসংগঠনের জাতীয় পর্যায়ের নেতারা। জয়নাল হাজারীর মৃত্যু এবং বিকেলে তার জানাজার কারণে বিএনপি সমাবেশটি স্থগিত করেছে। তবে খুব শিগগির সমাবেশের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে।’

প্রসঙ্গত,গতকাল রাতে হঠাৎই চারিদিকে খবর ছড়িয়ে পড়ে জয়নাল হাজারির আর নেই।এরপর সরেজমিনে খোজ নিয়ে জানা যায় তিনি সত্যিই মৃত্যু বরণ করেছেন। আজ রাজধানী ঢাকায় তার প্রথম জানাযা সম্পন্ন হয়।এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ফেনীতে। সেখানেই সমাহিত করা হবে তাকে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net