বড় পাপ করেছি, এ পাপ কোথা থেকে এলো জানি না : হামজালাল

বড় পাপ করেছি, এ পাপ কোথা থেকে এলো জানি না : হামজালাল

সম্প্রতি বরিশালের ঝালকাঠির সন্ধ্যা নদীতে একটি লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং মধ্যরাতে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে মূলত গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় মানুষ তড়িঘড়ি করে বাঁচার তাগিদে চেষ্টা করেছে কিন্তু অনেকেই সেই চেষ্টায় বিফল হয়েছে। হৃদয়বিদারক ঘটনাটি নিয়ে দেশের মানুষের মনে দাগ কেটে দিয়েছে।

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে আগুনে পুড়ে যাওয়া লঞ্চ অভিযান-১০ এর মালিক হামজালাল গ্রেপ্তার হওয়ার আগে এক টিভি সাক্ষাৎকারে বলেন- তাঁর লঞ্চের ৪০ জনেরও বেশি যাত্রীর প্রাণহানির ঘটনায় তিনি শোকাহত। ঘটনার দায় কাঁধে নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমি এতো বড় পাপ করেছি। এই পাপটা কোন জায়গা থেকে আসল আমি জানি না।’ তবে তিনি নাশকতার সন্দেহও করছেন; পাশাপাশি স্বীকার করেছেন ইন্সুরেন্স না থাকার কথা।

এই ভিডিও সাক্ষাৎকারে দেওয়া হামজালালের বক্তব্য এখানে হুবহু তুলে ধরা হলোঝালকাঠি পার হওয়ার ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরে এই দুর্ঘটনায় ঘটে। তবে সাথে সাথে আমাকে জানায় নাই। মাস্টারও জানায় নাই। আমারে কেরানি জানাইছে। কান্নাকাটি করছিল। আমি বললাম, কান্দস ক্যান, কী হইছে। বলে, জাহাজ শেষ হইয়া গেছে। বললাম, আগুন বন্ধ করার ব্যবস্থা কর। ফায়ার কর। কেরানি বলল, ফায়ার যেগুলো দিয়া করব, সেগুলো তো ওই জায়গায়। আর যে আগুনের তাপ, এত কাছে গিয়া ফায়ার করাও সম্ভব না। বললাম কী করা যায়। ও বলল, স্যার জাহাজ শেষ হইয়া যাইব। আমি বললাম যাত্রী? কেরানি বলল, যাত্রী কিছু নামছে। জাহাজ ভাইসা গেছে। আসলে জাহাজের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এক চরের দিকে, পাড়ের দিয়ে মাস্টার ওঠাই দিসে। এর পর ১০ মিনিটে পারছে, ৫ মিনিটে পারছে অধিকাংশ যাত্রী নাইমা গেছে। যদি চাইর শ যাত্রী থাকে, দুই শর ওপর নামছে।

আর যাত্রী ঢাকা থেকে নিছিলাম ৩২৫ বা ৩০০ জনের মতো। চাঁদপুর থেকে উঠছে ‌১০০ এর ওপরে। এর মধ্যে বরিশালে কিছু নেমে যায়। আগুন নামার পর পাড়ে যখন আসছে জাহাজটা, স্টাফ হোক, আর যাই হোক, যাত্রী কিছু নাইমা গেছে। নিচতলার যেগুলো আছিল সব নাইমা গেছে। তবে জাহাজটা বান্ধা ছিল না। মাস্টার, কুক- আমি কাউরে ইয়ে করব না। যদি জ্ঞান কইরা কেউ না কেউ জাহাজটা বান দিয়া রাখত, পুরা যাত্রীগুলো নামতে পারত। চার শ‌র বেশি যাত্রী ছিল। আমি এক কথায় বললে, বলব যে দায় এড়াতে পারব না। এতগুলো মানুষ! আমি শোকাহত। আল্লাহ যেন আমাকে এই কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা দেয়। যারা মারা গেছে তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করি। আমি এত বড় পাপ করেছি। এই পাপটা কোন জায়গা থেকে আসল আমি জানি না। তবে আমি মনে করা এটায় নাশকতা আছে।

কারণ ইঞ্জিন রুমে বার্স্ট হইলে সেখানেই আগুন সীমাবদ্ধ থাকব। সেখানে সব শেষ হইয়া যাইব। সেখান থাইকা আগুন বার হইতে দুই আড়াই ঘণ্টা লাগব। এইটা কখনো ক্যাবিনে যাবে না। আমার কাছে ষড়যন্ত্র মনে হইতাছে। ষড়যন্ত্রগুলা মনে হইতাছে যে আমার বিরুদ্ধে যারা লাগছে সে মনে করছে যে এই কম্পানিটারে ধ্বংস করে দিতে পারলে হয়তো-বা আমরা নিরিবিলি থাকতে পারব। ইঞ্জিন রুম, মাঝখানে…তিন তলায় তো আগুন লাগতে পারে না। ঠিক আছে? আমি ডিজি শিপিং, লঞ্চ মালিক (সমিতি) ও বিআইডাব্লিওটিএ তিন জায়গায় দরখাস্ত দিয়েছি। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য। এই নাশকতা যারা করছে, তাগো বিচারের আওতায় আইনা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত কইরা বিচারের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করছি।

আর আমার লঞ্চের সব কাগজপত্র পাবেন, শুধু ইন্সুরেন্সটা পাবেন না। ইনস্যুরেন্সটা আমরা কেউ করি না। আমার মনে হয় কেউই দিতে পারবে না। ইনস্যুরেন্স হইব এই কারণে আমাদের সমিতি ট্রাস্টিবোর্ড রাইখা দেয়। ছোট হোক, বড় হোক, যাই হোক, এইটা এইখান থেকে দিয়া দিব। আর দোষারোপ আমারে করছে। আমি যদি জাহাজ বানাইয়া অপরাধ কইরা থাকি আমারে দোষারোপ করতে পারে। আমার দুয়ারে আইয়া ঘটনা ঘটছে, আমি এইটার দায় এড়াইতে পারি না। যেইটাই হোক, মোকাবেলা করতে আমি প্রস্তুত আছি।
সম্প্রতি দেশে ঘটে গেল একটি দুঃখজনক ঘটনা বরিশালের সুগন্ধা নদীতে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বহু মানুষ না ফেরার দেশে চলে গিয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এটি মূলত কিভাবে ঘটেছিল তা নিয়ে মানুষের মনে আর কোন প্রশ্ন থেকে গেছে বিভিন্ন জন বিভিন্ন ভাবে যৌক্তিক ব্যাখ্যা দেখালেও এখনো সেটি নিয়ে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net