এই দেশে টাকা দিলে নমিনেশন হয়, টাকায় মন্ত্রীত্ব পাওয়া যায়, টাকা দিলে সব আকাম কু-কুকাম শেষ হয় : আওয়ামী লীগ নেতা

এই দেশে টাকা দিলে নমিনেশন হয়, টাকায় মন্ত্রীত্ব পাওয়া যায়, টাকা দিলে সব আকাম কু-কুকাম শেষ হয় : আওয়ামী লীগ নেতা

প্রায় সময় রাজনৈতিক দলের নেতাদের ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সেই ফোনালাপ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কিছু নেতার ফোনালাপ প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু। আর ওই ফোনালাপের কারণে নিজ দলের মধ্যেও ব্যাপক সামালোচায় পড়েন তারা। এবার তেমন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের এক নেতারা ফোনালাপ প্রকাশ পে্যেছে।

কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাস্টার ও দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপি নেতা সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুহুল আমিনের একটি অডিও রেকর্ড ফাঁ’স হয়েছে।
সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাদের ওই ফোন রেকর্ডটি ছড়িয়ে পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যে ভাইরাল হয়। ওই রেকর্ডের একটি অংশে তিনি বলেন, ‘যারা নৌকা করে তারা রাজাকারের বাচ্চা!’

টানা ১ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের ওই অডিও রেকর্ডে তিনি বলেন, ‘আগে একজনকে দিয়ে সরাইতে হবে। দেবীদ্বারে কই? কোনো বিএনপি নেতা বাহির হইতে পারতাছে এখনো। আপনারা মিছিল মিটিং করেন, আমি সুযোগ করে দেই। অসুবিধা কি? আপনারা মিছিল-মিটিং করেন, তাইলেই তো বুঝবো আপনারা রাজনীতি করেন। আপনারা সময় আইলে একটু ইয়া করেন। এটা তো হবে না। রাজনীতি করতে গেলে নেতৃত্ব দিতে হবে, আর নেতৃত্ব দিতে গেলে আন্দোলন সংগ্রাম করতে হবে। আপনারা বিরোধীদল শক্ত না দেইখাই তো মামলা-হামলার ভয়ে মাঠে নামেন না। আমাদের একচেটিয়া কি একটা দেশ চলে? বিরোধী দল সব সময় স্ট্রং থাকতে হয়’।

এসময় বিএনপি নেতা রুহুল আমিন হাসি দিয়ে বলেন, ‘দেশ তো চলতাছে একচেটিয়াই।’ উত্তরে তিনি বলেন, আপনি যদি সুযোগ দেন, কথাটা বুইঝেন, আপনি যদি গ্রামের শক্তিশালী হন, তাহলে নিরীহরা তো কথা না বললে গ্রামে যা ইচ্ছা তাই হবে। দেশে অপকর্ম হবে। ভালো কাজ কিভাবে হবে বলেন। দেশের আজকের এই অধপতনের জন্য দায়ী হলো আপনাদের বিরোধী দল। যারা নৌকা করে তারা রাজাকারের বাচ্চা।

উত্তরে অট্টহাসি দিয়ে বিএনপি নেতা রুহুল আমি বলেন, ‘আমি শেষ হয়ে হয়ে গেছি, এই টুকুই বললাম’।
এসময় উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাস্টার বলেন, ‘আমারে বলতে হইবো না। এখনও …… (বাজে শব্দ উচ্চারণ করে বলেন) রাজনীতি ছাড়েন। কি করবেন রাজনীতি কইরা? যে দেশে টাকা দিলে নমিনেশন হয়, যে দেশে টাকায় মন্ত্রীত্ব পাওয়া যায়, যে দেশে টাকা দিলে সব আকাম কু-কুকাম শেষ হয়’।

এ ব্যাপারে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাস্টার জানান, গত ৪/৫ দিন আগে বিএনপি নেতা রুহুল আমিন একটি কাজে আমাকে ফোন করেছিলেন। এসময় প্রায় ১০ মিনিট তার সঙ্গে আমার কথা হয়। ওই সময় দেবীদ্বারের রাজনীতি নিয়ে কথা বলেছিলাম।
গত উপজেলা পরিষদ উপ-নির্বাচনে বর্তমান এমপি রাজী মুন্সির কেন্দ্রে নৌকা ফেল করে। ওই ক্ষোভে কিছু কথা বলেছিলাম। কিন্তু সেগুলোকে এডিট করে দেড় মিনিটের অডিও আজ (সোমবার) সন্ধ্যার পর ফাঁস করে। উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ওমানী কাশেম ফেসবুক আইডি থেকে প্রথম অডিওটি ফাঁ’স হয় বলে তিনি দাবি করেন। সূত্র:কালের কন্ঠ

এদিকে, ওই আওয়ামী লীগ নেতার ফোনালাপ প্রকাশ পাওয়ার পর তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে ওই আওয়ামী লীগ নেতা বলেছেন তার ফোনালাপ এডিট করা হয়েছে। কিন্তু তার নিজ এলাকায় বর্তমানে নেতাকর্মীদের মধ্যে তার ওই ফোনালাপ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। এমনকি ওই আওয়ামী লীগ নেতার নিজ এলাকার নেতারা বলছেন তার মতো একজন দায়িত্বপান ব্যক্তি কি করে ওই কথা বলতে পারেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net