সুদের জন্য বেচে দেওয়া সেই শিশু মায়ের কোলে, মহাজন রিমান্ডে

সুদের জন্য বেচে দেওয়া সেই শিশু মায়ের কোলে, মহাজন রিমান্ডে

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পাগলায় সুদের টাকার জন্য বেচে দেওয়া সেই শিশু মায়ের কোলে ফিরেছে। এ ঘটনায় সুদের কারবারি লাকী বেগমকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
আজ সোমবার নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মোহাম্মদ মোহসেনের আদালত লাকী বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এর আগে আজ সকালে নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর এলাকা থেকে লাকী বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল রোববার মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর থেকে বিক্রি করে দেওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করে ফতুল্লা থানা–পুলিশ। আজ তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়।
এ ঘটনায় গতকাল শিশুটির মা রানী বেগম বাদী হয়ে মানব পাচার আইনে ফতুল্লা থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় সুদের মহাজন লাকী বেগম, তাঁর স্বামী হযরত আলী ও শিশুটিকে কিনে নেওয়া নারী রানু বেগমকে আসামি করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) নাজমুল হাসান বলেন, লাকী বেগমের কাছ থেকে রানী বেগমের স্বামী হযরত আলী কিছু টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সেই ঋণের টাকা শোধ করতে রানী বেগমকে লাকীর বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতে বাধ্য করা হতো। এর মধ্যে গত বছর রানী সন্তান প্রসব করলে সুদের টাকার জন্য লাকী বেগম রানীকে না জানিয়েই তাঁর এক দিন বয়সী সন্তানকে বিক্রি করে দেন। তার পর থেকে রানী বেগমকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে রাখা হয়। এক বছর পর সুযোগ পেয়ে রানী ফতুল্লা মডেল থানায় এ বিষয়ে একটি মামলা করেন। পরে পুলিশ সুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে। আজ সকালে মামলার প্রধান আসামি লাকীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে ফতুল্লা থানায় গতকাল বিকেলে শিশুটিকে তার মা রীনা বেগমের কাছে তুলে দিতে গেলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিশুটিকে কিনে নেওয়া মা রানু বেগম বুক চাপড়ে বিলাপ করতে থাকেন। এক বছর ধরে সন্তানের স্নেহে বড় করা শিশুটিকে কোন উপায়ে তাঁর কাছে রাখা যাবে, তা জানতে দিগ্‌বিদিক ছুটতে থাকেন। নিজের সন্তানকে কাছে ফিরে পেয়ে রানীও কান্নায় ভেঙে পড়েন।

রানু বেগম প্রথম আলোকে বলেন, এক মেয়ে ও এক ছেলের মা তিনি। তার ১০ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী। বেশ কয়েক বছর ধরে একটি সন্তান দত্তক নিতে চাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে করোনা মহামারির সময় জানতে পারেন অভাবের কারণে একটি ছেলেশিশুকে বিক্রি করে দেওয়া হবে। তাৎক্ষণিক ৭৫ হাজার টাকায় শিশুটিকে কিনে নেন রানু। নাম রাখেন মো. ইউসুফ। গতকাল রাতে হঠাৎ তাঁর বাড়িতে পুলিশ হাজির হলে জানতে পারেন শিশুটিকে চুরি করে এনে বিক্রি করা হয়েছিল। বলতে বলতে মাথা চেপে ধরে থানার মেঝেতে বসে পড়েন রানু।

ছেলেকে কাছে পেয়ে খুশি রানী। প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বিশ্বাস ছিল একদিন ছেলেকে ফিরে পাবেন। জন্মের আগে ছেলের নাম ঠিক করেছিলেন ‘রানা’। এখন যেহেতু ইউসুফ নাম রাখা হয়েছে, সে নামেই ডাকবেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net