সেই বৃক্ষে আওয়ামীলীগও প্রকারান্তরে পানি ঢালছে: প্রভাষ

সেই বৃক্ষে আওয়ামীলীগও প্রকারান্তরে পানি ঢালছে: প্রভাষ

যে যেভাবে পাছে সে সেভাবেই প্রতিবাদ করছে। তবে চিপ নিয়ে কে কার সাথে কি করলো সে বিষয়ে আমার কিছু যায় আসেনা। তবে এই বিষয় নিয়ে ইসলামকে কেন টেনে আনা হচ্ছে এমনি মন্তব্য করেছেন সংবাদ কর্মী প্রভাস আমিন। তিনি আরো বলেন,আমরা কি একটা সময়ের মধ্যে আছি? গত কয়েকদিনের ঘটনা আমার মনে বারবার এই প্রশ্ন জাগছে। সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল একটি উদার, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয়।

অনেকে ধর্মনিরপেক্ষতাকে ধর্মের সাথে গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতা হলো সকল ধর্মের মানুষের স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের অধিকার। বাংলাদেশ তাই করছিল। সেই উদারতা নিয়েই শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ইসলামের মূল চেতনার সাথে ধর্মনিরপেক্ষতার কোন বিরোধ নেই।
সুবর্ণা মোস্তফার সাথে আমরাও অবিলম্বে দায়ী পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি। এখন পুলিশের দায়িত্ব তাদের বাহিনীর ভাবমূর্তি বৃদ্ধির স্বার্থে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শা//স্তি নিশ্চিত করা। আর যাতে কেউ রাস্তায় নারীদের হয়রানি বা হয়রানি করতে না পারে।

ইসলাম বিনা বাধায় নিজের ধর্ম পালনের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়। কিন্তু আমাদের দেশে কিছু মানুষ ধর্মকে সবকিছুর মধ্যে টেনে নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ইসলামকে দূরে সরিয়ে নিতে চায়। ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করা হচ্ছে। কিছু উগ্রবাদী সাম্প্রদায়িক চিন্তাধারার লোকেরা ইসলামকে কঠিন করে তুলছে। ইসলামের সরল ও মসৃণ সৌন্দর্যকে তারা নিষিদ্ধের জালে আটকানোর চেষ্টা করছে।

এই সাম্প্রদায়িক শক্তি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে এবং পাকিস্তানি হানাদারদের সাথে হ//ত্যা, ধ//র্ষণ, অ//গ্নিসংযোগ ও লু//টপাট চালায়। ধর্মের নামে তারা এসব করেছে। এভাবেই তারা ধর্মকে ব্যবহার করেছে, প্রতি যুগে ধর্মকে অপমান করেছে।

বিজয়ের পর ধর্মের নামে যে সাম্প্রদায়িক শক্তি অন্যায় করেছে তারা গর্তে যায়। কিন্তু 75 এর পর তারা দ্বিগুণ শক্তিতে ফিরে আসে। ধীরে ধীরে ক্ষমতার কাছাকাছি চলে যাচ্ছে। বাংলাকে আফগান করার ইচ্ছা প্রকাশ্যে এসেছে। ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্র ও সমাজের অনেক অসঙ্গতি দূর করে। কিন্তু সাম্প্রদায়িকতার শিকড় এত গভীরে গেঁথে গেছে যে আওয়ামী লীগ সেই বিষবৃক্ষকে উপড়ে ফেলতে পারেনি। উল্টো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার কৌশলের আড়ালে বারবার আপস করে বি//ষবৃক্ষে পানি ঢলছে।

সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনার পরও রাষ্ট্রধর্ম বিলুপ্ত করার সাহস আওয়ামী লীগের ছিল না। বিভিন্ন সময়ে সাম্প্রদায়িক শক্তির হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে রাষ্ট্রের মৌলিক চরিত্র বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাঠ্যপুস্তককে সাম্প্রদায়িক করা হয়েছে। দুধ কলা দিয়ে পোষা সাম্প্রদায়িকতার সেই কলসাপ এখন সুযোগ পেলেই কামড়াচ্ছে।

দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে স্বাধীন হওয়া পাকিস্তান আমাদের জাতিকে বারবার শত্রু করেছে। ধর্ম হলো মানুষের বিশ্বাস আর জাতীয়তা হলো তার মাটি, তার শিকড়। পাকিস্তান বারবার ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দিতে চেয়েছে এবং প্রত্যাখ্যান করেছে।

পহেলা বৈশাখে পাকিস্তানিরা আতঙ্কিত, রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনলেই তাদের শরীর জ্বলে যেত। বাঙালি সংস্কৃতি ও ইসলাম বা অন্য কোনো ধর্মের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল না। নিজ ধর্ম পালন করলেও নিজ জাতীয়তা পালনে কোনো বাধা নেই। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের স্লোগান ছিল ‘আমরা হিন্দু, আমরা খ্রিস্টান, আমরা বৌদ্ধ, আমরা মুসলমান; আমরা সবাই বাঙালি। ‘
নারীরা শাড়ি পরে, কপালে টিপ দিয়ে সুন্দর সাজে। পোশাকে টিপ ছাড়া সম্পূর্ণ নয়। তাদের জন্য কবিতায় লিখা আছে, অনেকদিন পর যদি দেখি, ঝর্ণার জলের মতো হাসবে, কিছু না জেনে নীরা, আমি তোমার সুন্দর বাঁকা টিপ দেখব।”

গান ও গজল ছাড়া বাঙালি মুসলমানের ঈদ পূর্ণ হয় না উল্লেখ করে কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন, নারী সৌন্দর্যের ধারণার সঙ্গে টিপ দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। শুধু নারীর সৌন্দর্যই নয়, শিশুদের ঘুম পাড়ানো গানেও প্রাধান্য পেয়েছে টিপ, ‘এসো, এসো, চাঁদ মামা টিপ দিয়ে যাও চাদের কপালে চাঁদের টিপ দিয়ে যাও।’ সেই টিপ এখন সাম্প্রদায়িক অ//পশক্তির আ///ক্রমণের লক্ষ্যবস্তু।

তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজের প্রভাষক ড. লতা সমাদ্দার তার কর্মস্থলে হেঁটে যাচ্ছিলেন। ফার্মগেটে মোটরসাইকেলে পুলিশের ইউনিফর্ম পরা এক ব্যক্তি তাকে খারাপ আচারন করে, তুমি কি আমাকে টিপ দিতে পারো? লতা সমদ্দারের প্রতিবাদ করতে গেলে পুলিশ সদস্য তার গায়ে মোটরসাইকেল চাপিয়ে দেয়।

লতা থানায় জিডি করেন। তবে এক্ষেত্রে আতঙ্ক আরও বেশি। কারণ কোনো নারী রাস্তায় হ//য়রানি বা ই//ভটিজিংয়ের শিকার হলে পুলিশের দ্বারস্থ হবেন। কিন্তু পুলিশ তাদের হ//য়রানি করলে জনগণ কোথায় যাবে, কার কাছে বিচার চাইবে।

লতা সমাদ্দার জিডিতে মোটরসাইকেলের নম্বর উল্লেখ করেছেন। সেই মেধাবী পুলিশ সদস্যকে ধরা এখন পুলিশের কাছে ঘণ্টার পর ঘণ্টার ব্যাপার। অনেক আনাড়ি খুনের রহস্য উন্মোচন করে পুলিশ বাহিনী আমাদের আস্থা অর্জন করেছে। এখন পুলিশের দায়িত্ব মেধাবীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা। আমি একজন পুলিশ সদস্যের জন্য পুরো বাহিনীকে দায়ী করতে চাই না।

অথবা আমি বাংলাদেশকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে চিত্রিত করতে চাই না। আমি আশাবাদী কারণ সকল বিবেকবান মানুষ লতা সমাদ্দারের পাশে দাঁড়িয়েছে। মিডিয়া থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, সর্বত্রই বইছে নিন্দার ঝড়। এই ঝড়ে আশার আলো দেখছি। কে টিপ পরবে, কে শাড়ি পরবে, কে জিনস পরবে, কে টি-শার্ট পরবে, কে হিজাব পরবে; এটা সবার স্বাধীনতা। রাষ্ট্র কারো ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেনি, আমরাও যেন না করি।

সংসদে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের বিষয়টি তুলে ধরেছেন এমপি সুবর্ণা মোস্তফা। সংসদে তিনি বলেন, “নারীদের টিপ না পরার অধিকার নিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের ই-টিজিং বা গসিপ বাংলাদেশের নারী সমাজের জন্য একটি লজ্জাজনক ঘটনা।” তিনি হিন্দু, মুসলিম বা বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান, ধর্ম নির্বিশেষে। দেশের সংবিধানের কোন আইনে বলা হয়েছে একজন নারী টিপ পরতে পারবেন না? সে বিবাহিত বা অবিবাহিত যে ধর্মেরই হোক না কেন, এটা তার অধিকার। ‘

সুবর্ণ মোস্তফার সাথে আমরাও অবিলম্বে দায়ী পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি। এখন পুলিশের দায়িত্ব তাদের বাহিনীর ভাবমূর্তি বৃদ্ধির স্বার্থে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। আর যাতে কেউ রাস্তায় নারীদের হয়রানি বা হয়রানি করতে না পারে।
জানা গেছে আজ ৪ এপ্রিল সেই আলোচিত পুলিশকে আটক করায়েছে। ওই পুলিশকে জেরা করে ঘটনার আসল সত্য উৎপাটনের চেষ্টা করছে দায়িত্ব-রত পুলিশ কর্মকর্তা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net