সেইদিন প্রধানমন্ত্রী আমাকে যা বললেন পাঁচবার কাউকে মন্ত্রী বানানোর চেয়েও সেই কথা বেশি মুল্যবান: কাদের সিদ্দিকী

সেইদিন প্রধানমন্ত্রী আমাকে যা বললেন পাঁচবার কাউকে মন্ত্রী বানানোর চেয়েও সেই কথা বেশি মুল্যবান: কাদের সিদ্দিকী

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং রাজনৈতিক ইতিহাসের সাথে ওৎপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে একটি নাম। আর সেই নামটি হলো বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বাংলাদেশের ইতিহাস রাজনীতি এবং বঙ্গবন্ধুর নামের সাথে জড়িয়ে রয়েছেন। একটা সময়ে রাজনীতিতে ছিলেন অনেক বেশি সক্রিয়। তবে বর্তমানে রাজনীতির মাঠে কম থাকলেও ধারাবাহিকভাবে দেশের অনেক ইতিহাস এবং নিজের অভিজ্ঞতা সহ সমসাময়িক অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলে থাকেন এই নেতা বা লেখালেখিও করে থাকেন। আর এরই ধারাবাহিকতায় আবারো একটি তার লেখা একটি কলাম প্রকাশিত হয়েছে।পাঠকদের উদ্দেশে তার সেই লেখনি তুলে ধরা হলো হুবহু:-আমি জানি না ২০২২ সালের নতুন বছর কেমন হবে। আজ ১৬ জানুয়ারী, ২০২২। আমি ১৪ জুন, ১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহণ করেছি। এবং তিনি জানেন, দয়াময় আল্লাহ এখানে কতদিন থাকবেন। কিছুদিন আগে লিখেছিলাম, বড় কাজ করে বেশিদিন বাঁচার দরকার নেই।

বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে মারা গেলে তিনি হতেন বিশ্বের অন্যতম প্রিয় নেতা। মহাত্মা গান্ধী সাধারণ মানুষের খুব কাছের, বিশেষ করে তাঁর ভক্তদের হৃদয়ের মানুষ। আমার মতে, আমাদের নেতা বঙ্গবন্ধু তার চেয়ে বেশি জনপ্রিয় হতেন। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত তিনি প্রায় সাড়ে তিন বছর বেঁচে ছিলেন। এই সাড়ে তিন বছর ধরে এত সমালোচনা, এত কটূক্তি, এত গালাগালি যা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মারা গেলে অন্যরকম হতো, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর গল্পটা অন্যরকম হতো। কিছু ক্ষেত্রে, বেঁচে থাকা বোধগম্য। বিশেষ করে যে দেশে ছোট-বড় ভেদাভেদ নেই, বয়স্কদের মর্যাদা নেই, মানবিক গুণাবলি নেই, এমন পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকা আরও দুঃখজনক। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, মানুষ নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলে মনে হচ্ছে। সাধারণ মানুষ সামনে কোনো ভবিষ্যৎ দেখছে না। শক্তিই শক্তি এবং শক্তিই শক্তি। কেউ কেউ টাকার পেছনে এমনভাবে দৌড়ায় যে মনের জায়গা থাকে না।

এমন ভয় আমার জীবনেও আসেনি। আমি মৃত্যুকে কখনো ভয় পাইনি। যদিও আমি আমার বাবার মৃত্যুকে সহজে নিতে পারতাম, কিন্তু আমি আমার মায়ের মৃত্যু নিয়ে খুব বিভ্রান্ত ছিলাম। পৃথিবীটা আমার কাছে অর্থহীন মনে হলো। সবকিছু সত্বেও মনে হচ্ছিল যেন এক অর্থহীন অন্ধকার। হঠাৎ আমার বুকে জায়গা করে নিল কুশিমণি। কুশীমণি প্রাপ্তির পর সমস্ত ব্যথা-বেদনা-হতাশা কর্পূরের মতো পাতলা বাতাসে মিলিয়ে গেল। জীবনের সমস্ত দিক আলোয় আলোকিত হয়েছিল। একটি ছোট ছেলে তার সারা শরীরে ৪২ টি দাগ। আমরা তাকে বাড়িতে নিয়ে এসেছি, জন্মের ৬৩-৬৪ দিন পর তাকে বুকে জায়গা দিয়েছি। কুশিমণি যখন আমাদের ঘর আলো করে, তখন আল্লাহর কাছে অনেক কেঁদেছিলাম, আল্লাহ যেন শিশুটিকে একটু বড় হওয়ার সুযোগ দেন।

কত করুণাময় ভগবান, কুশীমণির বয়স এখন ১৫ বছর। আমার স্ত্রী তার দুই সন্তানকে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ মা ছিলেন না। আমার সন্তানরা একে অপরের ভাই ছিল না। তাদের মধ্যে সবসময় মারামারি হতো। যদিও খুব অল্প বয়সে তাদের সম্পর্কের কথা আমার কিছুই মনে নেই, তবে দীপের বয়স ১৬-১৭ এবং কুন্ডি ১২-১৩ বছর বয়সে দুই ভাইয়ের মধ্যে যে লড়াই হয়েছিল তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। দীপ-কুন্ডির মা তাদের জন্য পারফেক্ট মা ছিলেন না। কিন্তু কুশীমণি যখন বাড়ি ফিরল, তখন সব ভরে গেল। আমার স্ত্রী একজন মা হয়েছেন, একজন মহিলা। প্রদীপের বোতাম দিয়ে নয়, কুশিমণির মাধ্যমে নারীর আকর্ষণ অনুভব করতে শিখুন। চারিদিকে অশান্তি থাকলেও পরিবারে শান্তির অভাব নেই। আর এই শান্তিতে কুশিমণির অবদান সম্পূর্ণ।

এ বছরের শুরু থেকেই প্রতি মুহূর্তে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করা হচ্ছে। মাঝে মাঝে হঠাৎ জেগে উঠে অনেক স্মৃতি মনে পড়ে যায়। আমার স্বপ্ন দেখার কোনো ইচ্ছা নেই। তার পরেও মাঝে মাঝে আমি ঘুমিয়ে পড়লে বাবা এসে আমাকে সরিয়ে দিতেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় আগস্টের প্রথম দিকে একবার স্বপ্ন দেখেছিলাম। দেখছি আমরা যুদ্ধে জয়ী হয়েছি। বঙ্গবন্ধু টাঙ্গাইলে এসেছেন। পার্ক ময়দানে আপনাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছি। দুই লাইনে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্য দিয়ে সোজা হেঁটে যাচ্ছি। পার্কের আশেপাশের লাখো মানুষ আনন্দে মেতে ওঠেন। স্বাধীনতার পর আসলে আমরা একইভাবে টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী স্কুলের মাঠে অস্ত্র জমা দিয়েছিলাম। পার্কে বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। টাঙ্গাইলে এমন জনসভা আগে দেখেনি। জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও এখন সাধারণ মানুষ খুব একটা জনসভায় যায় না। ইন্টারনেটের যুগে অনেকেই মোবাইলের মাধ্যমে ঘরে বসেই সবকিছু দেখতে পাচ্ছেন। ব্যক্তিগতভাবে জনসভায় না গিয়েও তিনি প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে বাড়ির অনেক কিছু দেখেন। কিন্তু তখন সেটা ছিল না। ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারী জনসভায় প্রায় লক্ষাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। লন্ডন ও দিল্লি হয়ে ব্রিটিশ রাজকীয় ফ্লাইটে পাকিস্তানের কারাগার থেকে ঢাকায় ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু। তার জন্ম ১০ জানুয়ারী, ১৯৮২। আমি ১০ তারিখে ঢাকা এয়ারপোর্টে যেতে পারিনি বিভিন্ন সময়সূচির কারণে। রাতে বাবার সাথে কথা বললাম।

বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে আমি খুব বিরক্ত হয়েছিলাম, আমি সম্মানিত হয়েছিলাম, অন্তত দীর্ঘ উড়ানের পরে তিনি আমাকে ফোন করেছিলেন। পাকিস্তান থেকে লন্ডন, লন্ডন থেকে দিল্লি, সেখান থেকে ঢাকা হতে হবে ১৫-১৬ হাজার কিলোমিটার। ক্লান্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক। তিনি আমার সাথে বাবার মতো কথা বলেছিলেন, সমস্ত ক্লান্তি দূর করে দিয়েছিলেন। পাকিস্তান থেকে লন্ডনে এসে বাবাকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, কাদের সিদ্দিকী কে? বঙ্গবন্ধু তার স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বললেন, হায়! সে আমার ছেলে. কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনি আমার সম্পর্কে জানতে পারেন।আমরা বাংলাদেশে প্রথম জনসভা করি ১৬ ডিসেম্বর পল্টনে। বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় ছেলে জামালকে সেখানে নিয়ে যাই। সেই জনসভায় জনতার নির্দেশে দুই মেয়েকে অপহরণকারী চার চোরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাকে নিয়ে অনেক অপপ্রচার হয়েছিল। তার ওপর ভিত্তি করে টাঙ্গাইল পার্কে এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু খোলাখুলি বলেছিলেন, চারজনকে কারা শাস্তি দিয়েছে? যারা নারী অপহরণ করেছে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে তাদের এক হাজারেরও শাস্তি দিতে পারলে তিনি আমাকে ধন্যবাদ জানাতেন।

‘বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তোফায়েল আহমেদ ছাড়া আর কেউ ছিল না। ছাত্রলীগের শেখ শহিদুল ইসলাম ও বঙ্গবন্ধুর দুই ছেলে জামাল ও রাসেল। টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে কাদের সিদ্দিকী ক্ষমতা দখল করবেন বলে আশঙ্কা করেন নেতারা। কিন্তু আমাদের এমন কোনো চিন্তা ছিল না। বাবার নির্দেশে অস্ত্র হাতে নিয়েছি, তাকে অস্ত্র দিতে পারা আমাদের জন্য অনেক কিছু। এত বড় মুক্তিযুদ্ধে, বিশেষ করে রাজধানীর বাইরে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ অস্ত্র দেয়নি। অনেক মুক্তিযোদ্ধার অস্ত্র পাকিস্তানের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে, যা ছিল অত্যন্ত নিন্দনীয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের দাসত্বে থাকা সরকারি কর্মচারীরা চাকরিতে থেকে গেলেই স্বাধীনতা বা মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপক ক্ষতি হয়। যদিও রাজ্যের প্রত্যেককে বরখাস্ত করা যায় না, প্রশাসনিক চাকরিতে যারা ছিলেন, যারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় ছিলেন, তাদের সবাইকে তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা উচিত ছিল। আমরা কেউই আকাশ থেকে পড়িনি।

নয় মাস রাত যুদ্ধ করে বেঁচে থেকে দেশের স্বাধীনতায় ভূমিকা রেখেছি। যখন দেখলাম স্বাধীনতার পর টাঙ্গাইলের ডিসি আশিকুর রহমানকে টাঙ্গাইল থেকে সরিয়ে উচ্চ পদ দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজার থেকে টাঙ্গাইলে আসেন ডিসি মো. তিনি মুক্তিযুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেননি। খুব সম্ভবত তিনি মহকুমা কর্মকর্তা হিসেবে ফেনীতে ছিলেন। একজন এসপি এসেছিলেন, সম্ভবত মুক্তিযুদ্ধের সময় পঞ্চগড় থেকে একজন মহকুমা পুলিশ অফিসার। তিনি অনেক লোকের মধ্যে একজন যাকে ধরে নিয়ে পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতার পর ৩৬-৩৯ দিন আমাদের কাছে বন্দুক ছিল। এ সময় টাঙ্গাইলে একজনও নিহত হয়নি, একটি বাড়িতেও ডাকাতি হয়নি। কিন্তু অস্ত্র হস্তান্তরের সঙ্গে সঙ্গে ডাকাতি শুরু হয়। স্বাধীনতার পর আমরা ঠিক যেভাবে চলতে পারিনি। আজ যখন সময়ে সময়ে শুনি, তখন কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, বঙ্গবন্ধু কেন পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিলেন? পাকিস্তানের কাছে আত্মসমর্পণ, সেটা মোটেও সত্য নয়।

বঙ্গবন্ধু পালিয়ে গেলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে খুঁজতে আরও ৫-১০ লাখ মানুষকে হত্যা করে। সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, কামারুজ্জামান এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ভারতে গিয়ে সেখানে প্রবাসী সরকার গঠন করলে মুক্তিযুদ্ধের তুঙ্গে ওঠে। শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, তোফায়েল আহমেদ, আ স ম আবদুর রব, আবদুল কুদ্দুস মাখন, শাহজাহান সিরাজ, নূরে আলম সিদ্দিকী। যখন ১০ মিলিয়ন হিন্দু-মুসলিম উদ্বাস্তু সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছিল, তখন ভারত সরকার এবং ভারতীয় জনগণের উপর প্রবল চাপ ছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ভারতে গেলে মুক্তিযুদ্ধ দুর্বল হয়ে যেত। বঙ্গবন্ধুকে ভারত থেকে একজন রানার হিসেবে বিবেচনা করা হতো। অনেকেই বলতে চান, ভারত পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশকে সাহায্য করেছিল। এটা মিথ্যা নয়।

কিন্তু ভারত বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ নিয়ে মানবজাতির পথপ্রদর্শক হয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে, ভারতের গর্ব করার মতো বড় কোনো সামরিক সাফল্য ছিল না। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং এতে বিরাট সাফল্য ভারতকে একশ বছর এগিয়ে দিয়েছে। এইভাবে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ভারতকে বর্তমান অবস্থায় আনতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। সে সময় বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ না হলে আজকের মহান ভারত নিজেকে বিশ্বের দরবারে দেখতে পেত না। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এমন বৈশ্বিক প্রভাব ফেলতেন না। বাংলাদেশের জন্য মিসেস ইন্দিরা গান্ধীকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য অনেক অপমান ও বিসর্জন সহ্য করতে হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সনের সঙ্গে দেখা করতে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে তাকে। সবকিছু উপেক্ষা করে ইন্দিরা গান্ধী বিশ্বজনমত তৈরিতে দারুণ সাফল্য অর্জন করেন।

কুশিমণি দিয়ে শুরু করলাম। কয়েক বছর আগে ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে আসরের নামাজ পড়তে গিয়েছিলাম, যেখানে বঙ্গবন্ধুর লাশ ছিল। ওইদিন প্রধানমন্ত্রী মিলাদ আয়োজন করেন। এক জায়গায় নারী, অন্য জায়গায় পুরুষ। মিলাদ শেষে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে বললেন, ‘বজরা, তুমি যা করেছ তা সবাই করতে পারবে না। নিশ্চয়ই আপনার ছেলের জন্য আল্লাহর রহমত হবে এবং আপনি দুনিয়াতেই এর সুফল পাবেন। ‘প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনে মন ভরে গেল। কাউকে পাঁচবার মন্ত্রী না করে সেদিন প্রধানমন্ত্রীর অমূল্য কথায় হৃদয়-মন ভরে গিয়েছিল। যা পেলাম, যা পেলাম না তার চেয়েও বেশি, আল্লাহর রহমতে পারিবারিক জীবনে শান্তিতে আছি।

রোববারের দুটি নির্বাচনই জমজমাট। একটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, অন্যটি টাঙ্গাইল-৬ মির্জাপুর উপনির্বাচন। আরও কয়েকটি পৌরসভায় নির্বাচন হয়েছে। এ দুজনের মধ্যে কোনো মারামারি, মারামারি, খুন হয়নি। অংশগ্রহণ ছিল ৫০ শতাংশ। অনেকেই ভোট দিতে পারেননি। ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহার করায় অনেকের ভোট দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ইভিএম মেশিনে আঙুল দিয়ে রাষ্ট্রপতির সামনে যেভাবে ছবিটি দেখছি। সেভাবেই ভোট হলে তো আর গোপন কথা নেই। কোন বোতাম টিপতে হবে তা গোপন। অনেকেরই আঙুলের ডগা মেলেনি। কেন যে হবে? কম্পিউটার কখনই এমন হওয়ার কথা নয়। এবং ইভিএমে ভোট দেওয়ার বিষয়টি সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে ভোটারদের কাছে পরিচিত হওয়া উচিত। নির্বাচনের এক-দুই দিন আগে রিহার্সাল না করে সারা বছর রিহার্সাল করতে হবে। মানুষের জন্য সহজ করার জন্য। আইয়ুব খান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ভোট দিতে জানে না। তাই গণতন্ত্রের মৌলিক ব্যবস্থা। এটা বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে, বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে ভালো ভোট দিতে জানে, প্রার্থী বাছাই করতে জানে। ভারত-পাকিস্তান সৃষ্টির সময় সিলেট জেলা নিয়ে গণভোট হয়েছিল। সেদিন অনেকেই ভারতের পক্ষে থাকলেও সাধারণ মানুষ সিলেটকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে মত দেন।

১৯৫৪ সালে জনাব হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দী নৌকায় ভোট দিতে কোনো ভুল করেননি। যখন একটি সিদ্ধান্তের প্রয়োজন ছিল, পাকিস্তানের শেষ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৭০ সালে। পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের পক্ষে ভোট দেয়। এই নারায়ণগঞ্জ ও টাঙ্গাইল-৬ মির্জাপুর সিটি করপোরেশনের ১৮ তারিখের উপনির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা যে ভোট দিতে জানে তা দেখিয়ে দিয়েছে। মির্জাপুরের নির্বাচনে আমাদের দলেও কিছু পরিবর্তন এসেছে। দলীয় কর্মীরা ভোটে অংশ নিতে চাইলে একটি দল লাঙ্গলকে ভোট দিতে চায়।

সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামত ছিল লাঙ্গলের দল জাতীয় পার্টি, যেটি সরকারকেও সমর্থন করেছিল। তারা অনেক দিন একসাথে থাকে। তাই একটা ছাগলের তিনটা বাচ্চা, একটা দুধ খাওয়ালে একটা বাচ্চা লাফ দেয়। জাতীয় পার্টি অনেকটা সেরকম। তাহলে সন্তানের জন্য ভোট দিতে যাবেন কেন? সন্তানের মাকে ভোট দিলে ভালো হয়। সেটাই হয়েছে। আমাদের জনগণ শেষ পর্যন্ত নৌকাকে সমর্থন করে ভোট দিয়েছে। আমিও তাতে আপত্তি করিনি। কারণ জাহাজ প্রার্থী খান আহমেদ শুভ ফজলুর রহমান খান ফারুকের ছেলে। ফজলুর রহমান খান ফারুক এক সময় আমাদের নেতা ছিলেন। লতিফ সিদ্দিকী, শাহজাহান সিরাজ, ফজলুর রহমান খান ফারুক, আল মুজাহিদী, ফজলুল করিম মিঠু, আতিকুর রহমান সালু এক সময় টাঙ্গাইলে আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অগ্রদূত ছিলেন। তাদের দেখেই আমরা রাজনীতিতে এসেছি।

তাই আমি যাকে জড়িয়ে ধরেছি তাকে ভোট দেওয়া ভালো। তাই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও আমাদের আপত্তি নেই। নারায়ণগঞ্জ শহরের পছন্দ বিশ্লেষণ করলে অনেক কিছুই আমাদের নজর কাড়বে। পঞ্চাশ শতাংশ সাধারণ ভোটারও কেন্দ্রের দিকে তাকায়নি। বিএনপির একজন সমর্থকও কেন্দ্রে যাননি। তাই এখন কেন্দ্রে যেতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের উচিত সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করা। জনগণ ভোটের সাফল্য বা ভোটারদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রতিফলন না দেখা পর্যন্ত কোনো উৎসবমুখর ভোট হবে না।
প্রসঙ্গত, একটা সময়ে আওয়ামীলীগের সাথে একেবারেই ওৎপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন তিনি। তবে গেল কয়েক দশক ধরে সেই ভাবে তিনি জড়িত নেই আওয়ামীলীগের সাথে। নিজের দল নিয়েও তেমন একটি সক্রিয় নন তিনি। বর্তমানে লেখালেখি করেই বেশি সময় পাড় করে থাকেন জনপ্রিয় এই নেতা এবং মুক্তিযোদ্ধা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net