মেয়র হওয়ার স্বপ্ন ভঙ্গ, অন্যদিকে দল থেকে অব্যাহতি, তৈমূরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী

মেয়র হওয়ার স্বপ্ন ভঙ্গ, অন্যদিকে দল থেকে অব্যাহতি, তৈমূরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী

নাসিক নির্বাচনে আলোচিত ব্যক্তিত্ব খন্দকার তৈমুরকে নিয়ে বেশ আলোচনা তৈরি হয়েছিল এবং সেই সাথে তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পরেও তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে তবে তৈমুর এসবকিছু কাটিয়ে নির্বাচনে মনোযোগ দেন এবং সেই সাথে তিনি তার নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা চালাতে থাকেন কিন্তু পরিশেষে দেখা যায় নির্বাচনে তার ভরাডুবি হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, “দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দল যদি মনে করে সে তার জায়গা ফিরিয়ে দেবে, আজকে বললে কাল তা হবে না।দলীয় ফোরামে এটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে তারপর সিদ্ধান্ত আসবে। টা এক লাইনে বলে দেয়ার মতো ঘটনা না।”
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে হেরে যান তৈমুর আলম খন্দকার। এর মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন তার মেয়র হওয়ার স্বপ্ন চুরমার হয়েছে, অন্যদিকে তার নিজের রাজনৈতিক দল বিএনপি থেকেও দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ হারিয়েছেন। এমন বাস্তবতায় তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আলোচনায় এসেছে। কোন পরিকল্পনা নিয়ে যাবেন— সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।

নির্বাচনের আগে এবং পরে তৈমুর বলেছিলেন যে বিএনপির সাথে তার সম্পর্ক কখনই ছিন্ন হবে না। এমন বক্তব্যে স্পষ্ট যে তিনি বিএনপির সঙ্গেই থাকতে চান। তবে জব্দ করা পদ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি বিএনপির হাইকমান্ড গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে কি না সেটাই দেখার বিষয়।
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে হেরে যান আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার। তিনি ৬৬ হাজার ৯৩১ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন।

অন্যদিকে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তৈমুর আলম খন্দকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় বিএনপি। কয়েকদিন আগে জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়কের উপদেষ্টার পদ হারান তৈমুর। তিনি এখন শুধু বিএনপির রাজনৈতিক দলের সদস্য।
নির্বাচনের আগে তৈমুর বলেন, দল তাকে কৌশলগত কারণে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে; এতে সব দলের সমর্থন রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই দলের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন হবে না। রোববার ভোটে হেরে যাওয়ার পরও তিনি একই কথার পুনরাবৃত্তি করলেন: বিএনপি তার রক্তে মিশে আছে।

ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর রোববার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তৈমুর বলেন, “রাজনীতি করতে হলে দল লাগে, কিন্তু অবস্থান নেয় না; তৈমুর আলম খন্দকারের কোনো পদ লাগবে না। বিএনপির সঙ্গে মিশে আছে। আমার রক্ত, আমি বিএনপির রাজনীতি করব।’
নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে তৈমুর বলেন, নানা কারণে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। দুটি কারণের একটি ছিল দলের মহাসচিবের বক্তব্য এবং নির্বাচন নিয়ে দলের আগের কৌশল।

তিনি বলেন: “ঠাকুরগাঁওয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি দল হিসেবে কোনো স্থানীয় নির্বাচনে যাবে না। তবে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যেতে চাইলে তা করতে পারেন; এতে কোন আপত্তি থাকবে না।
এমনকি কুমিল্লা পৌর করপোরেশন নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থীকে ভোটের আগে বসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি বসলেন না। নির্বাচনে জয়লাভের পর দল তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে। ‘

তৈমুর আলমের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, “দেখুন, দল কাউকে জিতেছে নাকি হেরেছে তার ওপর ভিত্তি করে বিচার করে না। আর লড়তে হলে আনন্দকে মেনে নিতে হবে।” সেইসাথে ক্ষতি।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দল যদি মনে করে যে এটি তার জায়গায় ফিরে যেতে চলেছে, আগামীকাল তা ঘটবে না। এটি ফোরামে আলোচনা করা হবে। এটা পুনর্বিবেচনা করা হবে. তারপর সিদ্ধান্ত আসবে। এটা এক-আকার-ফিট-সব ইভেন্ট নয়। ”
বিএনপির সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী বলেন, তাকে বিএনপির জেলা সমন্বয়ক ও চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এটা দলের সিদ্ধান্ত, সেসব সিদ্ধান্ত হাইকমান্ড থেকে আসে। এখন সে হেরে গেছে। এটা এক ধরনের ট্র্যাজেডি। তবে এ সরকার স্বাভাবিক অনিয়ম ও চুরি না করলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতো।

“তবে বিএনপি এখনও এটা নিয়ে ভাবছে। যাই হোক না কেন, এর জন্য সময় আছে।”
প্রসঙ্গত, বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে হেরে গেছেন তৈমুর আলম খন্দকার। তিনি অবশ্য যখন নির্বাচনে নেমেছিলেন তখন তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল এবং এর পরেই তাকে বিএনপি থেকে অব্যহতি দেওয়া হয় সেই থেকেই তিনি তার মত করে নির্বাচনি প্রচারনা চালাতে থাকেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net