যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাল মেলানো কঠিন হচ্ছে বাংলাদেশের, আসলে কি চায় যুক্তরাষ্ট্র জানালেন রাষ্ট্রদূত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাল মেলানো কঠিন হচ্ছে বাংলাদেশের, আসলে কি চায় যুক্তরাষ্ট্র জানালেন রাষ্ট্রদূত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট বাংলাদেশকে যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সেটি এখন টক অব দ্যা টাউন। বাংলাদেশের কয়েকজন এলিট বাহিনীর সদস্যদের প্রতি যুক্তরাষ্টের যে গুরুতর অভিযোগ এনেছে সেটি আন্তজার্তিক গনমাধ্যমে ব্যপকভাবে আলোচিত হয়েছে। বিচার বহিভুর্ত কর্কমান্ড করে তারা মানবধিকার লংঘন করেছে। তবে এই ব্যপারটি নিয়ে সরকার এবং র‍্যাবের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন এই ব্যপারটি উদ্দেশ্য প্রনোদিত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় না। একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই বিলম্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা বাংলাদেশ কঠিন সময় পার করছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত, পররাষ্ট্র সচিব ও সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি স্পষ্ট।

উদাহরণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০০৬ সালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জিএসপির অভিযোগ ওঠে। ছয় বছর পর ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির জেরে জিএসপি সুবিধা বাতিল করা হয়।
র‌্যাবের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি রাতারাতি উঠে আসেনি। ২০০৮ সাল থেকে মার্কিন প্রশাসন র‌্যাবের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে। ২০২০ সালের জুলাই মাসে জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেছিল যে তারা র‌্যাবকে কোনো আর্থিক সহায়তা দেবে না। প্রায় দেড় বছর পরে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে, নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, প্রক্রিয়াটি যৌক্তিক। সব দলের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে একটানা আলোচনার পর একটা চূড়ান্ত রূপ বেরিয়ে আসে। ‘
“যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বেশ কিছু বিষয় উত্থাপন করে,” তিনি বলেন। অনেক দেশ কিছু বিষয় বিবেচনা করলেও অনেক দেশ সেগুলোকে গুরুত্ব দেয় না।

যুক্তরাষ্ট্র কি চায়?
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জটিল সমীকরণে অনেক কিছু পাওয়া যায়। এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশে মূল্য সমস্যা দেখতে চায়। তালিকায় রয়েছে: গণতন্ত্র, সুষ্ঠু নির্বাচন, আইনের শাসন, মতপ্রকাশ ও ধর্মের স্বাধীনতা, সন্ত্রাস দমন, মানব ও মাদক পাচার প্রতিরোধ।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমেরিকান ব্যবস্থায় মূল্যবোধকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে অনেকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অগণতান্ত্রিক সৌদি আরবকে কিছু বলে না। কিন্তু বাস্তবে তার অনেক রিপোর্টই সৌদি আরবের সমালোচনা করে। ”

“যুক্তরাষ্ট্র কোনো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একক কাঠামোতে দেখে না,” বলেছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত। তবে কিছু বিষয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। যেমন, কোনো দেশ চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক রাখতে চাইলে মার্কিন প্রশাসনকে সে বিষয়ে চিন্তা করতে হবে না। কিন্তু কেউ যদি কৌশলগত সম্পর্ক রাখতে চায় বা চীনা মূল্যবোধ মেনে চলতে চায়, তাদের আপত্তি আছে। ”

নির্বাচন বড় চ্যালেঞ্জ
২০০৮ সালে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পর বাংলাদেশ সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তরল না হলেও বাংলাদেশের ওই নির্বাচন দেশের ভাবমূর্তিকে ব্যাপকভাবে উন্নত করে।
২০১৪ সালে সামান্য ছন্দ আছে। বিরোধী দল সেই সময়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায়, ১৫৩ টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল। ২০১৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০ টি আসনের মধ্যে প্রায় ২৭০ টি আসনে জয়লাভ করে। সেই নির্বাচনের ফলাফল অনেক দেশের কাছে বুঝিয়ে দিতে তাড়াহুড়ো করতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
হুমায়ুন কবির বলেন: “আমি ২০০৬ সালে একজন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ওয়াশিংটনে ছিলাম। ওই বছর নির্বাচনের পর বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেক বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে গণতন্ত্রকে মূল্য দেয়। তারা এটাকে একটি বড় সম্পদ বলে মনে করে।

এরপর কি?
সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ড. শহীদুল হক বলেন, আমরা যখন তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে বসি, তখন তারা গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, মানব পাচার, মাদক চোরাচালান, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। আমরা পর্যাপ্ত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ‘
“এটি নামিয়ে আনার এবং এগিয়ে যাওয়ার সময়,” তিনি বলেছিলেন।

“যে কোনো সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বেশ জটিল। এটি বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে,” তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবসময় শক্তিশালীদের সাথে ভারসাম্যের নীতি অনুসরণ করেছে। যাইহোক, এই ভারসাম্য স্থিতিশীল নয়। এটি জাতীয় স্বার্থের প্রেক্ষাপটে পরিবর্তিত হয়। এতে, একটি নতুন ভারসাম্য নীতি প্রকাশিত হয়। ‘
সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন: “কিছু দেশ আমাদের প্রতি অসন্তুষ্ট। আমরা কারণ খুঁজছি। আমি তাদের অসন্তোষ দূর করার চেষ্টা করছি।”

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বর্তমান সময়ে দেশের জন্য বড় একটি বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে এবং দেখা যাচ্ছে এই বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে নানান মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং অনেকেই নানা শঙ্কা প্রকাশ করছে এই বিষয়টি নিয়ে এবং আগামীতে আরো কোন দিক থেকে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে কিনা তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net