আগামী জাতীয় নির্বাচন কিভাবে হবে কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে অবস্থান জানালো সরকার

আগামী জাতীয় নির্বাচন কিভাবে হবে কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে অবস্থান জানালো সরকার

আগামী মাসে নির্বাচন কমিশের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতি দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে বসেছে। এদিকে, আগামীতে ইসি পুনর্গঠন ও জাতীয় নির্বাচন কেমন হবে এ নিয়ে নানা রকম আলোচনা চলছে। অবশেষে কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে ইসি পুনর্গঠন ও নির্বাচন নিয়ে অবস্থান জানালো সরকার। এই কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া একাধিক দেশের কূটনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলো। এই কূটনৈতিক ব্রিফিং সম্পর্কে বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশ পেল।

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির চলমান সংলাপ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনীতিকদের ব্রিফিং করেছে সরকার। সরকারি প্রতিনিধিরা বিদেশি বন্ধুদের বলেছেন, গণতন্ত্রের অগ্রগতির কোনো শেষ নেই, বাংলাদেশও তা বিশ্বাস করে। সরকার আগামীতে আরও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে রোববার সকালে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বছরের প্রথম কূটনৈতিক ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

রুদ্ধদ্বার এ ব্রিফিংয়ে একে আবদুল মোমেন, বিচারমন্ত্রী আনিসুল হক, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি বক্তব্য দেন। এ সময় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ব্রিফিংয়ে ঢাকায় অবস্থিত ৫০টি বিদেশি মিশনের (দূতাবাস, হাইকমিশন ও কনস্যুলেট) প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রায় সবাই অংশগ্রহণ করলেও যুক্তরাষ্ট্র, চীন বা সৌদি আরবের কোনো রাষ্ট্রদূত বা প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি।

সূত্রগুলি অবশ্য নিশ্চিত করেছে যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আল মিলার, যিনি তার প্রস্থানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ব্রিফিংয়ের জন্য আমন্ত্রণ পাওয়ার পরপরই তার অক্ষমতার বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে অবহিত করেছিলেন। সৌদি রাষ্ট্রদূত ছুটিতে ছিলেন বলেও মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। তবে এই নিবন্ধটি লেখার সময় চীনা রাষ্ট্রদূতের অনুপস্থিতির কারণ বা ব্যাখ্যা জানা যায়নি।
বরাবরই কূটনৈতিক ব্রিফিংগুলো ক্লোজডোর হয়, এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে অতীতে ব্রিফিংয়ের শুরুতে গণমাধ্যমকে ছবি বা ভিডিও ফুটেজ দেওয়ার চুক্তি হলেও এবার গণমাধ্যমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সূত্র জানায়, সং’ক্রমণের ঝুঁকিসহ বিভিন্ন কারণে সম্পূর্ণ ভিন্ন বিন্যাসে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ের সূচনা বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ের সূচনা বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনসহ গত বছরে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্জন, অতৃপ্তি এবং চলতি বছরের পরিকল্পনা যা উন্নয়ন এজেন্ডা-২০৩০ এবং ২০৪১-এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ তা তুলে ধরে।
ব্রিফিং রো’হি’ঙ্গা সংকটের বিদ্যমান বাস্তবতা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির সমর্থনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং অনুরোধ জানায়। বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পূর্ণ সমর্থন। গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার ইস্যুতে বাংলাদেশের অঙ্গীকার ও রাজনৈতিক অবস্থান এবং বিভিন্ন উদ্যোগ, দু’র্নী’তি, স’ন্ত্রা’সের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে স্পষ্ট করা হয়।

ব্রিফিংয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের চলমান প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন। সেই যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যায় তিনি স্পষ্ট করেছেন যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে ধারাবাহিক সংলাপ এবং মতবিনিময়ের একটি অংশে অংশ নিচ্ছেন। বিদ্যমান আইনে এটিকে সেরা বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিচারমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। রাষ্ট্রপতির সংলাপ, সার্চ কমিটি গঠনে ইসি তারই অংশ।

সরকার আরও ভালো নির্বাচন উপহার দিতে চায় উল্লেখ করে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্রপতির চলমান সংলাপ সফল হবে এবং এর মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করা সম্ভব হবে। বিদ্যমান আইন থেকে ইসি পুনর্গঠনে সরকার আন্তরিক উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো অবস্থাতেই আইন থেকে বিচ্যুত হবে না। উপরন্তু, তিনি বিভিন্ন উপায়ে স্পষ্ট করেছেন যে কেউ আইনের বাইরে গিয়ে নিজের ইচ্ছা ও দাবি মেনে চলতে পারে না, উপস্থিত একাধিক কূটনীতিক জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানে তারা বলেন, বিচারমন্ত্রী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার নিয়ে বন্ধুপ্রতিম দেশ ও উন্নয়ন সহযোগীদের উদ্বেগ দূর করতে চেয়েছেন।

তিনি বলেন, আইনের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি এর অপব্যবহার (অপব্যবহার ও অপব্যবহার) বিষয়ে সরকার সর্বদাই মনোযোগী। অফিস ছাড়ার পর তিনি কী করবেন তা এই মুহূর্তে অজানা। সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম নির্বাচন নিয়ে কূটনীতিকদের ব্রিফিং করেন। এ সময় তিনি দেশের কয়েক হাজার ইউনিয়ন, উপজেলা ও পৌরসভার সাম্প্রতিক নির্বাচনের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। বিচার মন্ত্রী “বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়” নির্বাচন নিয়ে বিদেশী বন্ধুদের এবং মিডিয়ার সমালোচনার জবাব দেন। তিনি বলেন, যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে অংশ না নিলে একজনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করতে হবে। এটাই গণতন্ত্রের নিয়ম। সেটা নিয়মের মধ্যেই আছে।
মন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশগুলোরও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাস রয়েছে। সূত্র জানায়, ব্রিফিংয়ে বেশিরভাগ রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও মিশন প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। তবে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ ও জাপানি রাষ্ট্রদূতরা। বৃটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিক্সন জানতে চান, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে স্নাতক হওয়ার এই ক্রান্তিকাল অতিক্রম করার পরিকল্পনা বাংলাদেশ কীভাবে করছে। আর বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চান জাপানের রাষ্ট্রদূত।

সরকারের আরও অনেক কিছু করার আছে, তিনি বলেন, পরিবেশের উন্নতি করতে হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতদের প্রশ্ন ও মন্তব্যের জবাব দেন বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি রোহিঙ্গাদের জন্য বিদেশি বন্ধু ও উন্নয়ন সহযোগীদের অব্যাহত সহায়তার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য বিদেশি বন্ধুদের সহযোগিতা কামনা করেন। ব্রিফিংয়ের পর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিদেশি বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাদের তাজিকিস্তানের ছবি দেখানো হয়েছে। একজন আধিকারিক দাবি করেছেন যে ট্র্যাজেডির উপর নির্ভরশীল ছবিটি অনেককে সরিয়ে দিয়েছে এবং তাদের সরিয়ে দিয়েছে। সর্বশেষ কূটনৈতিক ব্রিফিং হয়েছিল ১৯ নভেম্বর।

ব্রিফিংয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি সভানেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাসহ সমসাময়িক ছয়টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই ব্রিফিংয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি উঠে আসেনি উল্লেখ করে গতকাল রাতে একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, আশ্চর্যের বিষয় হলো নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের সময় অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে নির্বাচন নিয়ে কেউ কিছু বলেননি। একই সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত বর্তমান ও সাবেক ৬ র‌্যাব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও তোলা হয়নি।

উল্লেখ্য, দেশের গত কয়েক বছরে বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন নিয়ে প্রায় সময় নানা রকম প্রশ্ন উঠছে। তবে এই কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ওই সকল বিষয় তুলে ধরেছেন। এছাড়া আরও একাধিক বিষয় তুলে ধরা হয় ওই কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও সৌদির কূটনৈতিক ব্যক্তিরা কি কারণে ওই কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে ছিলেন না তা নিয়ে বর্তমানে নানা রকম প্রশ্ন উঠছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net