‘হোসেনকে অপহরণ ও মারধরের ঘটনায় বাংলাদেশে সাংবাদিকদের নিপীরণের মাত্রা উন্মোচিত’

‘হোসেনকে অপহরণ ও মারধরের ঘটনায় বাংলাদেশে সাংবাদিকদের নিপীরণের মাত্রা উন্মোচিত’

মৌলভীবাজারে নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজের ক্যামেরাপার্সন হোসেন বকশ এর অপহরণ ও মারধরের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কাভার করা সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছে বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে)।

গণমাধ্যম এবং হোসেন বকশ এর বরাতে (১৩ জানুয়ারি) সিপিজে এক বিবৃতিতে জানায়- ৫ জানুয়ারি সিলেট বিভাগের কমলগঞ্জের মাধবপুর ইউনিয়নে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহ করতে নির্বাচন কমিশনের ইস্যুকৃত গাড়ি ও পাস নিয়ে বের হলে পথিমধ্যে ঝপলারপাড় এলাকায় মাধবপুর ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আসিদ আলীর নির্দেশে হোসেন বকশকে অপহরণ করে গুরুতরভাবে মারধর করা হয়। আসিদ আলী পরবর্তীতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটন ডিসিতে সিপিজে এশিয়ার প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী স্টিভেন বাটলার বলেছেন, “হোসেন বকশকে অপহরণ ও মারধরের ঘটনাটি দেখিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশি সাংবাদিকরা নির্বাচন কাভার করার সময় যে উল্লেখযোগ্য মাত্রার বিপদের সম্মুখীন হতে পারে।

কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে, অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। নিশ্চিত করুন যে আসন্ন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোতে সাংবাদিকরা নিরাপদে ও স্বাধীনভাবে রিপোর্ট করতে পারবে।” হোসেন বকশ জানান, আসিদ আলীর নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র মিছিল থেকে মাধবপুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের ভোটারদের হুমকি দেয়া হচ্ছিল। তিনি ঘটনার চিত্রগ্রহণ করছিলেন। এক সময় আসিদ ছয় বা সাতজনকে তাকে চাপাতি, লাঠি ও ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে অপহরণ করে তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন যাতে তিনি “ভবিষ্যতে তাদের ভয় পান”।

তিনি জানান, আক্রমণকারীরা তার ক্যামেরা, স্মার্টফোন, নগদ টাকা, ক্রেডিট কার্ড, মোটরসাইকেলের চাবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র চুরি করে যেগুলো তারা এখনো ফেরত দেয়নি। ঘটনার বিস্তারিত আরো জানিয়ে হোসেন বলেন, তাকে কালো গাড়িতে করে আসিদের বাড়িতে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রায় দেড় ঘন্টা আটকে রাখা হয়।

আসিদের পুত্র এবং ভাতিজারা মিলে তাকে বারবার বেধড়ক পেটায়।পথচারীদের কাছ থেকে অপহরণের খবর পেয়ে কমলগঞ্জ পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। হোসেন বকশ সিপিজেকে বলেন, তিনি কমলগঞ্জ থানায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন, কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা অপরাধীদের বিরুদ্ধে ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (এফআইআর) নথিভুক্ত করেননি, এই বলে যে আসামিদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যোগসাজশের কারণে আরও তদন্তের প্রয়োজন হবে। সিপিজে জানিয়েছে, মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো মন্তব্যের জন্য তাদের অনুরোধে সাড়া দেননি কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পাওয়া যায় নি এটিএন নিউজের নিউজ হেড মুন্নি সাহার কাছ থেকেও।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net