বেগম জিয়ার সেই বিবৃতি সবার সামনে উপস্থাপন করেছিলাম ,এটিই ছিল আমার অপরাধ: গয়েশ্বর

বেগম জিয়ার সেই বিবৃতি সবার সামনে উপস্থাপন করেছিলাম ,এটিই ছিল আমার অপরাধ: গয়েশ্বর

বাংলাদেশের একটি ভয়ঙ্কর অধ্যায়ের নাম ওয়ান ইলেভেন। আর এই ওয়ান ইলেভেনে বাংলাদেশে ঘটে গেছে অনেক কিছু। ঘটেছিল রাজনিতীর বড় ধরনের একটি পরিবর্তন। সম্প্রতি এই ওয়ান ইলেভেনের কথা জানাচ্ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বিএনপির অন্যতম বড় নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময় দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তাঁকে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

আজ শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে বিএনপির উদ্যোগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে ভোট ডাকাতির তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ‘ভোটাধিকার হরণের কালো দিবস’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮—এই তিন নির্বাচনে তিনটি কৌশলে বৈতরণি পার হয়েছে আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালের নির্বাচনের কৌশলটা আমরা আগে বুঝতে পারিনি। ওই নির্বাচনে প্রতিটি আসনে তৎকালীন সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের তত্ত্বাবধানে ৪০ হাজার ভোট বাক্সে রিজার্ভ রাখা ছিল। আমার জানামতে, কোনো একটি আসনে ৪০ হাজার ভোট ব্যালট বাক্সে রিজার্ভ রাখার পরও সেখানে ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে ছিল। পরে অন্য জেলা থেকে এনে তা পূরণ করা হয়। এই নির্বাচনটা ছিল যারা এক-এগারোতে অন্যায় করেছে, তাদের বেঁচে থাকা এবং শাস্তির আওতায় না আসার জন্য শেখ হাসিনার সঙ্গে একটি চুক্তি।’

ওয়ান ইলেভেন ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে গয়েশ্বর আরও বলেন, ‘একই ধরনের প্রস্তাব আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও দেওয়া হয়েছিল। রাতভর গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন দুই নেত্রীর (শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া) সঙ্গেই কথা বলত। তৎকালীন গোয়েন্দা সংস্থার দুটি নাম আছে—একজন হলেন মেজর জেনারেল আমিন, তিনি বিহারি আমিন নামে পরিচিত। ফজলুল কবির বারী ছিলেন ব্রিগেডিয়ার। একসময় এদের একজন আমাকে হুমকি দিয়ে ক্রসফায়ারের কথা বলছিল। আমি তখন তাকে বলেছিলাম, কাজটা খুব সহজ, সময় এবং স্থান বলে দিলে আমি আসতে পারি, আমাকে খুঁজতে হবে না। বেগম খালেদা জিয়ার একটি বিবৃতি সর্বপ্রথম গণমাধ্যমে উপস্থাপন করেছিলাম, এটিই ছিল আমার অপরাধ।’

গয়েশ্বর আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়া মুক্তির তিন মাস আগে ব্রিগেডিয়ার বারী অনেক কাকুতি-মিনতি করে আমার সঙ্গে বসতে চাইলেন। আমি বসলাম, দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা। আমার সঙ্গে আরও দুই-একজন ছিল। তাদের প্রস্তাবে যেন খালেদা জিয়া সম্মতি দেয়, সেই জন্য যেন আমি ভূমিকা রাখি। আমি বললাম, কীভাবে সম্ভব! আমি তো তার কোনো আইনজীবী না, তার কোনো আত্মীয়স্বজনও নই। আমাকে বলা হলো, রাত ১১টার দিকে আপনাকে তার কাছে নিয়ে যাব। ম্যাডামকে বোঝান। অর্থাৎ তাদের অপকর্মের দায়মুক্তি ইত্যাদি। তাহলে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসবেন এবং দেশটাও বাঁচবে। আমি বললাম, এতদিন পরে উপলব্ধিটা হলো কেন?

আমি তাদের কথায় রাজি না হয়ে বললাম, আপনারা খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন, তারপর আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। সঙ্গে এ-ও বললাম, আপনারা ম্যাডামের সঙ্গে আলোচনা করেন, তিনি যদি একটা চিরকুট দেয় অথবা তার পুত্রবধূ জোবাইদা রহমানের মাধ্যমে খবর পাঠান, তাহলে আমি যেতে পারি। তা ছাড়া আমি আপনাদের দালাল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারব না। তিনি খুব রাগ করলেন, আবার ক্রসফায়ারের ভয় দেখালেন। যাওয়ার আগে আমার বিরুদ্ধে একটি মামলা দিয়ে গেল। আপনার বোঝেন ওয়ান ইলেভেনের চক্রান্তটা কেমন ছিল।’

এ দিনের এই আলোচনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির অনেক বড় বড় নেতা থেকে শুরু করে তৃণমুল নেতা কর্মীরাও। সকলেই তাদের বক্তব্যে প্রদান করেন। এবং সেই সাথে চলমান সরকারের পতনের আন্দোলন চালিয়ে যাবার কথা জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net