তথ্যমন্ত্রীর সেই বক্তব্যের পর থেকে গণ মাধ্যমের সামনে আসছেন না পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রীর সেই বক্তব্যের পর থেকে গণ মাধ্যমের সামনে আসছেন না পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য একান্তই ব্যক্তিগত, সরকার বা দলের নয়: তথ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর থেকে গণ মাধ্যমের সামনে দেখা যায় নি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে।বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্ত্রহিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচোনার পরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কোন মন্তব্য দেখা যায় নি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে বিএনপিকে নির্বাচনে অংশ নিতে মার্কিন কর্তৃপক্ষকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে অনুরোধ করেছেন তা একান্ত তার ব্যক্তিগত মতামত বলে মন্তব্য করেছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনকে ভয় পায় এবং তারা যেহেতু বারবার বিদেশিদের কাছে সববিষয় নিয়ে ধর্ণা দেয় সেই প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুধু মিডিয়ার সামনে একথা বলেছেন, সেখানকার কর্মকর্তাদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করেননি। তার বক্তব্য একান্তই ব্যক্তিগত, সরকারের কিংবা আমাদের দলের বক্তব্য নয়।’

৫ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন সিনেটরের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ ও নাহিম রাজ্জাক এবং পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।

মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক নীতির প্রচার ও সুরক্ষার জন্য বাংলাদেশের প্রচেষ্টার বিশদ বিবরণ দিয়ে মার্কিন সরকারকে র‌্যাব ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান মোতাবেক যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্রকে সংহত করতে ও গণতন্ত্রের অভিযাত্রাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কারা নির্বাচনে আসবে সেটি তাদের নিজস্ব ব্যাপার। নির্বাচনের ট্রেন কারও জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে না।’

নির্বাচন নিয়ে বিএনপির চলমান আন্দোলন নিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচন কারো জন্য দাঁড়ায়নি। ২০১৮ সালে বিএনপি নির্বাচনের ট্রেনে উঠবে কি উঠবে না সেটা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিল। পরে ট্রেনের পাদানিতে চড়ে নির্বাচনের ট্রেনে গিয়েছিল। সুতরাং নির্বাচনের ট্রেন কারো জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে না।’

তিনি বলেন, ‘কোনো কিছু হলেই বিএনপি বিদেশিদের কাছে ধর্ণা দেয়, চিঠি লিখে। এমনকি বাংলাদেশকে সাহায্য দেওয়া পুনর্মূল্যায়ন করার জন্য বিএনপি কংগ্রেসম্যানদের কাছে চিঠি লিখেছে। বেগম খালেদা জিয়া নিজেই মার্কিন পত্রিকা ওয়াশিংটন টাইমসে এ নিয়ে নিবন্ধ লিখেছেন। আসলে বিএনপিকে নির্বাচন ভীতিতে পেয়ে বসেছে। শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন না, তারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও বর্জন করছে। তাদের ভীতি দূর করার দায়িত্ব আমাদের নয়। তবে যারা গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা, জনগণের রায়ে বিশ্বাস করে তাদের জন্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নাই। আমি আশা করবো বিএনপি নির্বাচনভীতি কাটিয়ে উঠে নির্বাচনে অংশ নেবে।’

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তিনি ২০১৯ সালের একটি বিস্ফোরক মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি আছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অন্যান্য মামলাও আছে সেজন্য তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকালের মিছিলের সাথে তার গ্রেপ্তারের কোনো সম্পর্ক নেই।’

একইসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যারা জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন করেছিলো, যারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করার হুকুমদাতা, তাদেরও গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net