অফিস কক্ষে জাবির ভিসির ছেলের মদ খাওয়ার ছবি ভাইরাল

অফিস কক্ষে জাবির ভিসির ছেলের মদ খাওয়ার ছবি ভাইরাল

উপাচার্যের বাসভবনের অফিস কক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের ছেলে প্রতীক হাসানের মাদক সেবনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল ছবিগুলোতে দেখা যায়, উপাচার্যের ছেলে প্রতীক যে অফিস কক্ষে মাদক সেবন করছেন সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টাঙানো আছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘টক অব দ্য টাউনে’ পরিণত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গণ্ডি পেরিয়ে ছবিগুলোর ধাক্কা এসে লেগেছে জাবির দেয়ালে দেয়ালে। জাবির বিভিন্ন দেয়ালে প্রতীক হাসানের ছবি সম্বলিত পোস্টার টানানো হয়েছে তার বিচারের দাবিতে। ‘জাহাঙ্গীরনগর পরিবারের’ ব্যানারে এ পোস্টারে ভিসিসহ তার স্বামী ও ছেলেকে দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিয়ে তাদের বিচার চাওয়া হয়েছে।

পোস্টারে লেখা আছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ফারজানা ইসলামের দুর্নীতির টাকায় উপাচার্য ভবন হয়ে ওঠে অপসংস্কৃতি, লাম্পট্য ও মাদকাসক্তির কেন্দ্র।

পোস্টারে আরও লেখা আছে, নিয়োগ ও উন্নয়ন প্রকল্পের কমিশন বাণিজ্যের হোতা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় অবৈধ হস্তক্ষেপকারী ফারজানার ছেলে প্রতিক, স্বামী আখতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এর আগে ২৫ শে মার্চ একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদক উৎপল দাস ফেসবুকে ভিসির ছেলের মদ খাওয়ার তিনটি ছবি সহ একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলামের একমাত্র গুণধর ছেলে প্রতীক হাসান কিভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি পিছনে রেখে ভিসির রুমে এসব করার সাহস পেয়েছিল?

জাবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি হামজা রহমান অন্তর তার ফেসবুক পেজে ছবিটি শেয়ার দিয়ে লেখেন, এই পরিবারটা (ভিসি ফারজানা) এতই বেপরোয়া ও দানব হয়েছে যে, জাতির পিতা ও শেখ হাসিনার ছবির সামনেও এসব (মদ্যপান) করার সাহস পায়!

এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান গত বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিটি আমিও দেখেছি। তবে এটি সাবেক ভিসি ও তার পারিবারিক বিষয়। তাই এ বিষয়ে আমি অন্য কোন মন্তব্য করবো না।

সাবেক ভিসির স্বামী ও ছেলের কাছে কারা মদ সরবরাহ করে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রক্টর বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

ঘটনা এখানেই শেষ নয়, ক্যাম্পাসের কোনো শিক্ষক যদি উচ্চ শিক্ষায় বিদেশ যেতে ভিসির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ নিতে যান তখন ভিসির স্বামী তাকে বিদেশি ব্র্যান্ডের মদ আনার জন্য বলেন বলেও অনেক শিক্ষক নিশ্চিত করেন।

ভিসির বাসভবনে দায়িত্বপালনকারী একটি সূত্র জানিয়েছেন, অফিসে বসে সাবেক ভিসির ছেলের মদ খাওয়ার ছবি প্রকাশ্যে আসার পরে ভিসির বাসভবন থেকে অনেকগুলো মদের বোতল বাহিরে পাঠানো হয়েছে।

ভিসির বাসায় যে কোন সময় তল্লাশী চালানো হতে পারে এমন ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে রাতের আঁধারে গাড়িতে করে বোতলগুলো সরানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সূত্রটি।এসব বিষয়ে জানতে সাবেক ভিসি ফারজানা ইসলাম ও তার ছেলে প্রতিক হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net