হারিছ চৌধুরীর বাড়ি এখন বিমসটেকের অফিস, উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

হারিছ চৌধুরীর বাড়ি এখন বিমসটেকের অফিস, উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সম্প্রতি এই বিএনপি নেতার মৃ’ত্যুর সংবাদটি প্রকাশ্যে আসে। এই বিএনপি নেতা গত গত সাড়ে তিন মাস আগে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। আর তিনি দেশেই মা’রা যান বলে জানিয়েছে তার কন্যা। হারিছ চৌধুরী দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিদেশে ছিলেন। কিন্তু বিএনপি এই নেতার মৃ’ত্যুর সংবাদ এতোদিন কেন প্রকাশ করা হয়নি এমন প্রশ্ন উঠছে। এক সময়ের বিএনপির এই দাপটে নেতা রাজধানী ঢাকা শহরে একটি বাড়ি ক্রয় করেন। সেই বাড়িটি বর্তমানে বিমসটেকের অফিস হয়েছে। তার সেই বাড়ি নিয়ে বর্তমানে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে।

দোতলা ভবনের সামনে ছোট্ট একটা মাঠ। মাঠের পাশেই ব্যাডমিন্টন খেলার মাঠ। চারপাশের ছোট ছোট গাছগুলো সুন্দর করে ছাঁটাই করা হয়েছে। মাঠের ঠিক মাঝখানে একটি নারকেল গাছ, গাছের নিচে বিভিন্ন রঙের পাথর বসিয়ে সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য। বাড়ির পেছনে ছোট্ট একটা বাগান। আশেপাশে ময়লার বিন্দুমাত্র চিহ্ন নেই।

হারিছ চৌধুরীর গুলশান-২-এর বাড়িটি এখন বে অফ বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (বিমসটেক), দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের আঞ্চলিক জোটের কার্যালয়। এই বাড়ির বর্তমান অবস্থা।
বেশ কিছুদিন ধরেই বিএনপি সভাপতি খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব ও দলটির নেতা হারিছ চৌধুরীর মৃ’ত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা। দুর্নীতি, ২১শে আগস্ট গ্রে’নে’ড হা’ম’লা, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হ’ত্যা’সহ বিভিন্ন বিষয়ে উত্তপ্ত আলোচনার মধ্যে ছিলেন তিনি। গুলশানে তার বাসা নিয়েও আলোচনা হয়।

২০১৪ সালে বাড়িটি সরকারকে ফেরত দেওয়ার পর থেকে এখানে বিমসটেক অফিস রয়েছে। অফিসটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেছিলেন। জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে হারিছ চৌধুরী এনডব্লিউআই-৬, রোড নং ৫৩, গুলশান-২-এ বাড়িটি কিনেছিলেন। তবে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে তিনি দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন। ২০ কাঠা বাড়ির তখনকার বাজারমূল্য প্রায় ৫০-৬০ কোটি টাকা হলেও তিনি বাড়িটি কিনেছিলেন মাত্র ৫ কোটি ৩৬ লাখ ৯১ লাখ টাকায়। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব থাকাকালে আমি এই বাড়িতে থাকতাম।

২০০০ সালে, আওয়ামী লীগ সরকার ন্যাম সম্মেলনের তহবিল সংগ্রহের জন্য গুলশান, বনানী এবং ধানমন্ডিতে কিছু পরিত্যক্ত সরকারি বাড়ি নিলামে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সুযোগে হারিছ চৌধুরী ২৬টি বাড়ির উপকণ্ঠে এই পরিত্যক্ত বাড়িটি কেনেন। তবে বাড়ি কেনার সময় তিনি তার নাম ব্যবহার করেননি। ফকির মাহবুব খান নামে এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির নামে বাড়িটি কিনেছেন তিনি।
২০০৬ সালে গুলশান সাব-রেজিস্ট্রেশন অফিসে বাড়িটির রেজিস্ট্রেশনের কাগজপত্র তৈরি করা হয়। ২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর তিনি ভারতে পালিয়ে যান। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সেখানে থাকতেন।

২০০৬ সাল থেকে ওই বাড়িতে কেউ থাকেন না। ২০১৪ সালে বাড়িটি ফেরত দেন ফকির মাহবুব খান। বাড়ির উল্টোদিকের একটি ভবনের একজন বয়স্ক নিরাপত্তারক্ষী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কিছুক্ষণ এই বাড়িতে কেউ ছিল না। ” অনেক দিন. ঘর বন্ধ ছিল। কখনও কখনও এটি একটি পরিত্যক্ত বাড়ির মত ছিল।

উল্লেখ্য, এক সময়ের বিএনপির এই দাপটে নেতা তার নিজ দলের জন্য অনেক কাজ করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে যখন একাধিক মামলা হয় তখনি তিনি দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যান। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তার কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি তার মৃ’ত্যুর সংবাদটি প্রকাশ্যে আসে। এরপর আবারো তাকে নিয়ে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। আর এবার তার এই বাড়ি সম্পর্কে এই সকল তথ্য উঠে এসেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net