প্রতিদিনই নিত্য নিতুন মার্কিন চাপ: নেপথ্যে ভারত?

প্রতিদিনই নিত্য নিতুন মার্কিন চাপ: নেপথ্যে ভারত?

সাম্প্রতিক সময়ে নানাদিক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে চাপ প্রয়োগ করছে। এই চাপের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে চীন থেকে আলাদা করা বলেই কোনো কোনো কূটনৈতিক মহল মনে করছে। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপ প্রয়োগের প্রচ্ছন্নভাবে ভারতের হাত রয়েছে বলেও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এটি এখন কূটনৈতিক অঙ্গনেও নানা রকম জল্পনা কল্পনা তৈরি করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জো বাইডেন প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দক্ষিণ এশিয়ার দিকে নজর দেয়া হচ্ছে এবং এই নজরদারির ফলে বাংলাদেশের ওপর নানারকম চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশকে গণতন্ত্র সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এই আমন্ত্রণ না জানানোর ঘটনাটি প্রচ্ছন্নভাবে বাংলাদেশের ওপর এক ধরনের নেতিবাচক মনোভাব বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে গত ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাতজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার ওপর ট্রেজারি বিভাগ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

এই নিষেধাজ্ঞা জারির ঘটনা বাংলাদেশের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন এই ঘটনার পরপরই কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এবং এরপর বাংলাদেশ এই নিষেধাজ্ঞা দূর করার জন্য বিভিন্ন রকম উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইতিবাচক কোনো সাড়া পায়নি।

এর মধ্যেই মার্কিন প্রশাসন দুর্নীতিবিরোধী একটি অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং যারা নগদ অর্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থাবর সম্পত্তি কিনেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই বাস্তবতায় এটি বাংলাদেশের জন্য নতুন ধরনের একটি চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। আর এই রকম একের পর এক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেন বাংলাদেশেবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করছে, এটি নিয়ে যখন কূটনৈতিক মহলে নানামুখী আলোচনা তখন অনেকেই মনে করছেন যে, এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সুদৃঢ় অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং এই অর্থতিক সম্পর্কের কারণেই বাংলাদেশের সাথে চীনের এক ধরনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে।

এই ঘনিষ্ঠতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পছন্দ করছেনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের অতিরিক্ত মাখামাখি এই অঞ্চলের ভারসাম্য নষ্ট করবে। যদিও এখন পর্যন্ত ভারত প্রকাশ্যে বলছে, বাংলাদেশে তাদের প্রধান বন্ধু। কিন্তু বিভিন্ন সূত্র মনে করছে যে, বাংলাদেশের ওপর এই চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা আছে। বাংলাদেশের সাথে ভারতের সুসম্পর্কের কারণে সরাসরিভাবে বাংলাদেশের উপর ভারত চাপ প্রয়োগ করতে পারছে না। এ জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করছে।

এর পেছনে একাধিক যুক্তি দেখাচ্ছেন কূটনৈতিক মহল। প্রথমত, জো বাইডেন প্রশাসনে এখন ভারতীয়দের আধিপত্য। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ভারতীয়রা রয়েছে। কাজেই ভারতে যেকোন ভাবেই তার ইচ্ছা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে দিতে পারে।

দ্বিতীয়ত, চীন-ভারত সম্পর্ক। সাম্প্রতিক সময়ে, চীন-ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে। এখানে চীন-ভারত সম্পর্ক যে রকম খারাপ, একইভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চীনের সম্পর্ক অত্যন্ত বাজে। এই দুটির কারণে ভারত মনে করছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দিয়ে বাংলাদেশকে চাপ প্রয়োগ করা একটি ভালো কৌশল হতে পারে।

তৃতীয়ত, ভারত মনে করছে যে চীনের সঙ্গে যদি বাংলাদেশ অত্যন্ত গভীর ভাবে সম্পর্ক করে তাহলে এক পর্যায়ে ভারতের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হতে বাধ্য। আর এই সমস্ত বাস্তবতার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের ব্যাপারে আগ্রাসী করে তোলার ক্ষেত্রে ভারত কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখছে বলে বিভিন্ন মহল মনে করছে। তবে ভারত এবং বাংলাদেশের উভয় দেশের কূটনীতিকরা বলছেন, দু’দেশের সম্পর্ক যথেষ্ট ভাল এবং নতুন উচ্চতায় সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার যাওয়ার জন্য দুই দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরই বদ্ধপরিকর।

উৎসঃ বাংলা ইনসাইডার

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net