Home | দেশজুড়ে | রংপুরে হেভিওয়েটদের সঙ্গে নতুনের লড়াই |নিউজ

রংপুরে হেভিওয়েটদের সঙ্গে নতুনের লড়াই |নিউজ

ডেস্ক রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আলামিন:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোরেশোরে চলছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। নানা ছন্দে, গানের সুরে মাইকিং চলছে পাড়া-মহল্লা থেকে শহরের অলি-গলি সর্বত্র। প্রার্থীদের পাশাপাশি মাঠে নেমেছেন দলীয় সমর্থক ও নেতাকর্মীরা। রংপুরের ৬টি সংসদীয় আসনে এবারে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন হেভিওয়েট প্রার্থীদের পাশাপাশি অনেক নতুন মুখ।

তবে প্রার্থীরা জানান, জয়ের জন্য নির্বাচনের মাঠে হেভিওয়েট প্রার্থী বা নতুন প্রার্থী কোনো বিষয় নয়, জনগণ যাকে যোগ্য বলে মনে করবেন তাকেই ভোট দেবেন।

রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবারে রংপুর-১ আসনে (গঙ্গাচড়া ও আংশিক সিটি) মহাজোটের প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলু, বিএনপির শাহ্ মো. রহমতুল্লাহ, স্বতন্ত্র প্রার্থী সিএম সাদিক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোক্তার হোসেন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ইশা মোহাম্মদ সবুজ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এদের মধ্যে মশিউর রহমান রাঙ্গা ২০০১ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই সঙ্গে জাতীয় পার্টির সদ্য মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

এ আসনে অপর প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক ইউপি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলুসহ আরও ৪ জন রয়েছেন। যাদের অধিকাংশই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নতুন মুখ।

রংপুর-২ (বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান এমপি আবুল কালাম আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক, বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার, জাতীয় পার্টির আসাদুজ্জামান চৌধুরী সাবলু, স্বতন্ত্র প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মণ্ডলসহ ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে ডিউক চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী সরকার ও আনিছুল ইসলাম মণ্ডল এর আগেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে অন্যরা এবারেই প্রথম সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

রংপুর-৩ (সদর ও সিটি) আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বর্তমান এমপি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে লড়বেন সংসদ নির্বাচনে নতুন মুখ বিএনপির রিটা রহমান, জাসদের সাখাওয়াত রাঙ্গা, প্রগতিশীল ডেমোক্রেটিক পার্টির সাব্বির আহম্মেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরুজ্জামান পিয়াল, বাসদের আনোয়ার হোসেন বাবলু, জাকের পার্টির আলমগীর হোসেন আলম, খেলাফত মজলিশের তৌহিদুর রহমান মন্ডল, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ছামসুল হক। ১৯৯১ সাল থেকে এ আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে রয়েছে।

রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী আওয়ামী লীগের দুই বারের সংসদ সদস্য টিপু মুনশির সঙ্গে লড়বেন বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা, জাতীয় পার্টির মোস্তফা সেলিম বেঙ্গলসহ অন্যান্য দলের আরও তিনজন প্রার্থী। মূলত প্রধান তিনটি দলের মধ্যে বিএনপি ও জাতীয় পাটির প্রার্থীরা এবারেই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের এইচ এন আশিকুর রহমানের সঙ্গে লড়ছেন বিএনপির অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, জাতীয় পার্টির এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীরসহ অন্যান্য দলের আরও তিনজন।

২০০১ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আশিকুর রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন জাতীয় পার্টির এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর। ঐক্যফ্রণ্টের প্রার্থী জামায়াত নেতা গোলাম রব্বানী এ উপজেলা থেকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবারই প্রথম অংশ নিচ্ছেন।

রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে লড়বেন জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন দলের আরও চারজন। যাদের অধিকাংশই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মত অংশগ্রহণ করছেন। ২০১৪ সালের উপ নির্বাচনে এ আসন থেকে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এ অঞ্চলের ভোটাররা জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের সাথে নতুনদের লড়াই খুব একটা সহজ হবে না।

রংপুর-৩ আসনের তরুণ ভোটার নাজমিন খাতুন বলেন, রংপুর সদর আসনে এরশাদ পরিচিত মুখ। তাকে সকলেই চেনেন। এ আসনের অন্যান্য প্রার্থীদের অনেকেই ভালোভাবে চেনেন না। নির্বাচনে ফেসভেলু বা অভিজ্ঞ প্রার্থী অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু তারপরও নির্বাচনে অভিজ্ঞ বা পুরাতনদের সঙ্গে নতুনদের লড়াই খুব একটা সহজ হবে না।

রংপুর-৫ আসনের তরুণ ভোটার নাহিদ হোসেন বলেন, নির্বাচনে জয়ের পরিসংখ্যানে পুরাতন বা হেভিওয়েট প্রার্থীরা একটু এগিয়ে থাকেন। এর মূল কারণ তাদের পূর্ব পরিচিতি। তবে ভোটাররা যদি মনে করেন যে, তারা নতুন বা তরুণ নেতৃত্বকে প্রাধান্য দেবেন তাহলে ফলাফল পাল্টে যেতেও পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী রিটা রহমান বলেন, ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রচার- প্রচারণা শুরু করেছি। রংপুর বিএনপি আমার পাশে আছে। ভোটারদের মাঝেও ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এ আসনে আমিই নির্বাচিত হব।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে জয়ের জন্য হেভিওয়েট প্রার্থী কোনো বিষয় নয়। নির্বাচনে কে জয়ী হবে তা নির্ভর করে জনগণের রায় ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ওপর।

রংপুর-৫ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর বলেন, নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থী বলতে কিছু নেই। জনগণের রায়ই সব।

এদিকে রংপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সিএম সাদিক বলেন, এর আগে রংপুর-১ আসনের ভোটাররা এ আসন থেকে বহিরাগতদের ভোট দিয়ে নিবার্চিত করেছে। আমি মনে করি এবার তারা এ ভুল বুঝতে পেরেছে। এবারের নির্বাচনে জনগণের কাছে হেভিওয়েট আর নতুন প্রার্থী বলে কিছু নেই। জনগণ এবং ভোটারদের কাছে যে প্রিয় মানুষ, যে এ আসনের স্থায়ী বাসিন্দা এবং বহিরাগত নয়, তাকেই জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর-৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও এই আসনে চার বারের সংসদ সদস্য এইচএন আশিকুর রহমান বলেন, জনগণের ভোটে এ আসনে ৪ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছি। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর এ আসনের সর্বোচ্চ উন্নয়নের চেষ্টা করেছি। আশা করি এবারও জনগণ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আমাকেই নির্বাচিত করবে।

রংপুর-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও এই আসনে দুই বারের সংসদ সদস্য টিপু মুন্শি বলেন, নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থী কোনো বিষয় নয়। এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের জন্যই কাজ করে গেছি। এ আসনের সকল সেক্টরে উন্নয়ন করেছি। যা জনগণ জানে। আমি মনে করি এবারের নির্বাচনে জনগণ আমাকেই নির্বাচিত করবে এবং ৩য় বারের মত জনগণের সেবা করার সুযোগ দেবে।

জিতু কবীর/আরএআর/আরআইপি

সুত্র: https://www.jagonews24.com/country/news/469341

About admin

Check Also

চেনা চেহারায় ফিরছে রাজশাহী |নিউজ

ডেস্ক রিপোর্টার : পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন নগরী হিসেবে রাজশাহীর খ্যাতি দেশজুড়ে। কিন্তু প্রায় তিন সপ্তাহ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *