‘আমার স্বামী রবিউল ইসলামকে পুলিশ নির্যাতন করে হত্যা করেছে’

‘আমার স্বামী রবিউল ইসলামকে পুলিশ নির্যাতন করে হত্যা করেছে’

স্বামীকে হারিয়ে প্রায় পাগলপ্রায় নিহত রবিউল ইসলামের স্ত্রী মনিরা বেগম। তার কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে আশপাশের পরিবেশ। স্বজনরা দেখতে গেলেই তাদের গলা জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে উঠছেন তিনি।মনিরা বেগম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘পুলিশের কারণে আমি বিধবা হয়েছি, আর আমার সন্তান হয়েছে অনাথ। আমরা এখন কী নিয়ে বাঁচব, কীভাবে বাঁচব।’
মনিরা বেগম অভিযোগ করেন, ‘আমার স্বামী রবিউল ইসলামকে পুলিশ নির্যাতন করে হত্যা করেছে। আমার স্বামী ছিলেন নিরপরাধ। পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করায় তার এই পরিণতি হয়েছে।’

তিনি বলেন,’আমার ৮ মাস বয়সের মেয়ে রোজমনি আখতার তার বাবার আদর থেকে চিরদিনের জন্য বঞ্চিত হলো। আমার স্বামী ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তার কাঠের ব্যবসার আয়ে সংসার ভালোভাবে চলছিল। এখনতো আমরা নিরুপায় হয়ে গেলাম। আমাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেল।’

‘পুলিশ কর্মকর্তা এসআই হালিমুর রহমানসহ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য পুলিশের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই,’ বলেন তিনি।এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে, শুক্রবার বিকেলে নিহত রবিউল ইসলামের ময়নাতদন্ত করা হয়। সন্ধ্যায় তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। শুক্রবার রাতে বাড়ির পাশে দাফন করা হয় রবিউলকে।

গত বৃহস্পতিবার লালমনিরহাট সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের কাজীর চওড়া গ্রামে বৈশাখী মেলা থেকে রবিউলকে আটক করে পুলিশ। এ সময় রবিউল নিজেকে নিরপরাধ দাবি করে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করেন। পরে তাকে লালমনিরহাট সদর থানার সাব ইন্সপেক্টর এসআই হালিমুর রহমানসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই রাতে রবিউলকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশের এসআই হালিমুর রহমানকে শুক্রবার বিকেলে থানা থেকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
নিহত রবিউল ইসলাম লালমনিরহাট সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের কাজীর চওড়া গ্রামের দুলাল খান ও সাফিয়া বেগমের ছেলে। তিনি পেশায় কাঠ ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহতের ভাই সোহাগ খান শনিবার দুপুরে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা অভিযুক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছি। পরিবারের সদস্যরা ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে আজ রাতে অথবা আগামীকাল সকালে মামলা দায়ের করা হবে।’

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সামিরা হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের এখানে এক্সপার্ট নেই। এ কারণে মরদেহের ভিসেরা সংগ্রহ করে শনিবার সকালে ঢাকার মহাখালীতে পাঠানো হয়েছে। ১ মাসের মধ্যেই ভিসেরা রিপোর্ট পেয়ে যাব। তখন জানতে পারব রবিউল ইসলামের মৃত্যু কী কারণে হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার পর আমরা প্রেস রিলিজের মাধ্যমে বিস্তারিত জানাব। যেহেতু এটি আলোচিত বিষয় তাই আগে থেকে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) শাহা আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘রবিউল ইসলামের মৃত্যু ঘটনায় থানায় একটি ইউডি (আনন্যাচারাল ডেথ) মামলা হয়েছে। নিহতের পরিবার থেকে এখনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তারা অভিযোগ দিলে পুলিশ অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে তা আমলে নেবে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net