জানুন “ব্ল্যাক ম্যাজিক” বা “বান মারা” কি?মুক্তির উপায়

জানুন “ব্ল্যাক ম্যাজিক” বা “বান মারা” কি?মুক্তির উপায়

ব্ল্যাক ম্যাজিক কি?

যাদুবিদ্যা মূলত অতিন্দ্রিয় আর প্রাকৃতিক শক্তিকে বশ করার বিদ্যা! ইংরেজি ম্যাজিক শব্দের উদ্ভব হয়েছে ফার্সি মাজি থেকে! মাজিরা যে সব ক্রিয়া-কর্ম পালন করতো, গ্রীকরা তাকেই ম্যাজিক বলে অভিহিত করতেন। যাদু টোনা” বা  Black magic হল  যেখানে শয়তানকে সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে কোনো উদ্দেশ্য হাসিল করা যাই। কাওকে বিপদে ফেলা বা নিজে কোনো বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়া বা নিজের কোনো অর্জন হাসিল করা

ব্ল্যাক ম্যাজিক উৎপত্তি ঃ

আত্মাসংক্রান্ত ধারণা থেকেই  মুলত এর উদ্ভব।পৃথিবীতে ধর্মের আবির্ভাবের আগেও মানুষের মধ্যে আধ্যাত্দিক চর্চা ছিল। আবার ধর্মের আবির্ভাবের পরও এই চর্চা অব্যাহত ছিল। বহুকাল আগে পাশ্চাত্যের ধর্মহীন গোত্রের মধ্যে অদ্ভুত কিছু বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ডের চর্চা ছিল তা থেকে মুলত ব্ল্যাক ম্যাজিক এর উৎপত্তি ।

ব্ল্যাক ম্যাজিক সত্য কি মিথ্যা ঃ

আপনি যদি স্রষ্টায় বিশ্বাসী হয়ে থাকেন!আপনি যদি আব্রাহামিক রিলিজিয়নে বিশ্বাসী হয়ে থাকেন, অর্থাৎ মুসলিম অথবা খৃস্টান অথবা ইহুদীধর্মে বিশ্বাসী হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে যাদু-টোনায় বিশ্বাসী হতেই হবে। কারণ, আব্রাহামিক রিলিজিয়নে শয়তান বলে একটা সত্বার অস্তিত্ব আছে, আর এই যাদু-টোনার উৎস হল সেই শয়তান। আর যদি আপনি স্রষ্টায় অবিশ্বাসী হয়ে থাকেন, তাহলে এসব কথা আপনার কাছে অর্থহীন।

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ভূত হলো এমন এক জিনিস, যা মৃত ব্যক্তির আত্মা। আর তা জীবিত ব্যক্তির সামনে দৃশ্য আকার ধারণ বা অন্য কোনো উপায়ে আত্দপ্রকাশ করতে সক্ষম। ভৌতিক অভিজ্ঞতায় ভূতকে নানাভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।কখনো অদৃশ্য বা অস্বচ্ছ বায়বীয় আবার কখনোবা বাস্তবসম্মত স্বপ্রাণ মানুষ বা জীবের আকারে। এসব ভূত বা প্রেতাত্মার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে ভবিষ্যদ্বাণী বা কোনো কাজ করার বিদ্যাকে ব্ল্যাক ম্যাজিক , নেক্রোম্যান্সি বা কালো জাদু বলে

খ্রিস্টধর্ম প্রবর্তনেরও আগের কথা। বহুকাল আগে পাশ্চাত্যে বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো ধর্মের প্রচলন ছিল না। তবে তাদের মধ্যে অদ্ভুত কিছু বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ডের চর্চা ছিল। এরা এক একটি গোত্র বিভিন্ন কাল্পনিক ভূত-প্রেত বা অশুভ আত্মার আরাধনা করত। যা আফ্রিকান ব্ল্যাক ম্যাজিক বা কালো জাদু নামে পরিচিত। এমনকি এখনো এ বিদ্যার গোপন অনুসারীরা তাদের এ বিদ্যা দিয়ে মানুষের ক্ষতি করে আসছে। এ বিদ্যায় পারদর্শীদের ডাকি বা ওঝা বলে আর আফ্রিকান ভাষায় এদের বলে কিনডকি।
বন্য পশুর দেহের বিভিন্ন অংশ দিয়ে তাবিজ-কবচ বানান তিনি। সেগুলো অনলাইনে দেশ-বিদেশে বিক্রি করেন। এভাবে ফুলেফেঁপে উঠেছে ব্যবসা। ভারতের মধ্যপ্রদেশের খরগোনে একটি মন্দিরে পুরোহিতের কাজও করেন তিনি।অপরের অনিষ্ট করার জন্য কালো জাদু, ডাইনি বিদ্যা এসব? আধুনিক উইচ ক্রাফট পশ্চিমা জগতেও বহাল তবিয়তে আছে৷ বার্লিনে এক অ্যামেরিকান নারী পেশা হিসেবে জাদুবিদ্যা প্রয়োগ করছেন৷ জাদুর এই প্রক্রিয়ার পারিশ্রমিক ১০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে

 

ইসলাম ধর্মমতে, যেকোনো প্রকার যাদু টোনা বা এ ধরণের যেকোনো কাজ একেবারে হারাম। এ ধরণের কাজ যে করেছে অথবা কাওকে দিয়ে করিয়েছে, সে সন্দেহাতীতভাবে কাফির হয়ে গেছে, তাকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে, তাওবাহ করে আবার নতুন করে কালিমা পড়ে মুসলিম হতে হবে। আর কেউ যাদু টোনা দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকলে সে ব্যাপারে ইসলামিক সমাধান হল “রুকইয়াহ”। এটি হল, কুরআনের আয়াত দ্বারা অসুস্থতা বা জ্বীন ঘটিত সমস্যা বা যাদু-টোনা থেকে মুক্তি পাওয়ার পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে প্রধানত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি বা অন্য কোনো ব্যক্তির কুরআনের আয়াত বিশেষ নিয়ম মেনে তিলাওয়াত করার (পাঠ করার) মাধ্যমে সমস্যা থেকে আল্লাহর সাহায্য দ্বারা মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করা হয়

আরেকটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে, যেকোনো ধরণের তাবিজ ঝুলানো শিরক, হারাম। এমনকী কুরআনের আয়াত লিখা তাবিজ হলেও। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তাবিজ ঝুলানোর পক্ষে যেকোনো জায়গা থেকে যেকোনো প্রমাণ হাজির করা হোক না কেন, সে প্রমাণ মিথ্যা, এ কথাই চূড়ান্ত

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net