জমানো ‘২০০০’ টাকা দিয়ে ৬’ পিস ;থ্রিপিস” কিনে ব্যবসা! মাসে উপার্জন দেড় লক্ষ

জমানো ‘২০০০’ টাকা দিয়ে ৬’ পিস ;থ্রিপিস” কিনে ব্যবসা! মাসে উপার্জন দেড় লক্ষ

সপ্তম শ্রেণীতে পড়াকালে তার বিয়ে হয় ২০০৮ সালে  । শ্বশুর বাড়ির লোকজন বিয়ের পর তাকে পড়াশোনার সুযোগ দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিলাউ বিয়ের পর তারা তাকে পড়াশোনা করতে নিরুৎসাহিত করেন। বর্না এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি কারন তার ভাইবোনরা সবাই শিক্ষিত। এমনকি তার শ্বশুর বাড়ির লোকজনও  শিক্ষিত। তাই জেদ চেপে যায় তার মধ্যে । তার নিজের বাড়ি ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনরা তাকে নিবৃত করতে পড়াশোনার কোনো খরচ দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

বর্ণা পড়তে চাইতেন। জীবনে অনেক বড় কিছু করার স্বপ্ন ছিলো তার। সবার অনিচ্ছা সত্ত্বেও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গেলেন। কিন্তু পড়াশোনার খরচ? তিনি তখন সবে মাত্র সপ্তম শ্রেণীতে পড়েন। রাস্তা ঘাট তেমন কিছুই চেনেন না। একদিন ছোট্ট বর্ণা টিফিনের টাকা জমিয়ে নেমে পড়লেন জীবনের বড় রাস্তায়। নিউমার্কেটে গিয়ে ব্লক-বাটিকের কিছু ড্রেস কিনে আনলেন। স্কুলের সহপাঠী ও শিক্ষকদের কাছে সেগুলো বিক্রি করা শুরু করলেন।

সেদিন কেউ তাকে দেখে হাসলেন,। কিন্তু তাতে তার কিছুই এসে গেলো না। সেসময় সবাই নিরুৎসাহিত করলেও তার মা এবং ছোট বোনের শিক্ষক তাকে খুব উৎসাহ যুগিয়েছিলেন। নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেই চালাতে লাগলেন। প্রাণান্তকর চেষ্টায় কল্যাণপুর গার্লস স্কুল থেকে এসএসসি ও মোহাম্মদপুর সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করলেন লড়াকু বর্ণা আসলাম।আমার শ্বাশুড়ি আমাকে বলেন, ‘আমাদেরতো আল্লাহ দিলে অবস্থান খারাপ না। তোমার আর পড়াশোনার দরকার নেই। তুমি এখন মা হয়েছো। নিজে না পড়ে বাড়িতে বসে মেয়েকে পড়াও। কিন্তু আমি পোস্ট গ্রাজুয়েশনটাও শেষ করতে চাই। আমার আশেপাশে সবাই শিক্ষিত। আমি কেনো পিছিয়ে থাকবো

 

 

খুব ছোটবেলা থেকেই ফ্যাশন ডিজাইন ও ড্রয়িং-এর প্রতি অনুরাগ ছিলো উদ্যোক্তা বর্ণার। যেখানে যা দেখতেন তাই যেনো দুচোখের ক্যামেরায় বন্দি করে নিতেন। নিমেষেই রপ্ত করে ফেলতেন ডিজাইনের বিভিন্ন ধরণের করণ-কৌশল। কলেজ জীবনে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকার মেয়েকে পড়াতেন তিনি। এরপর জাতীয় মহিলা সংস্থা ও বিসিকে ফ্যাশন ডিজাইনের উপর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তাছাড়া ব্যক্তিগত ভাবে অনেক গুণী প্রশিক্ষকের কাছে কাজ শিখেছেন। কোথাও চাকরি করার তেমন কোনো অভিজ্ঞতা নেই তার। তবে বর্তমানে জাতীয় মহিলা সংস্থার অধীনে ‘তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক নারী উন্নয়ন বিকাশ সাধন’ প্রকল্পের ফ্যাশন ডিজাইনিং বিষয়ের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ওহী’জ ফ্যাশন স্টাইল’ নামে উদ্যোক্তার একটি পেজ আছে। সেখান থেকে তিনি তার ব্যবসায় পরিচালনা করেন। এ কাজে সাহায্য করার জন্য ৭/৮ জন নিজস্ব কর্মীও আছে। এখনো পর্যন্ত সরাসরি দেশের বাইরে না গেলেও দেশের মধ্যে যশোর, মাগুরা, রংপুর, চিটাগাং, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় তার পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে। পণ্য বিক্রি করে বর্তমানে মাসে দেড় লক্ষাধিক টাকা উপার্জন করছেন তিনি। খুব তাড়াতাড়ি ব্যাবসার পরিধি আরও বাড়াবেন বলে ভাবছেন তিনি

আদি বাড়ি বরিশালে হলেও বর্ণার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকার কল্যাণপুরে। বাবা ফজলুর রহমান ছিলেন ঠিকাদার। কিছুদিন আগে তিনি পরলোকগত হয়েছেন। মা আয়েশা বেগম একজন গৃহীণি। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে বর্ণা তৃতীয়। অর্থনৈতিকভাবে তার পরিবারকে নিঃসন্দেহে সচ্ছলই বলা চলে। তবু বর্ণার সংগ্রাম ছিলো তার একার। আত্মমর্যাদার সংগ্রাম।

ছোট্ট এই জীবনে জীবন ঘষে পাওয়া অভিজ্ঞতাকে তিনি নিজের মধ্যে সংকুচিত করে রাখতে চান না। ভবিষ্যতে নিজের একটি ট্রেনিং ইন্সটিটিউট খোলার ইচ্ছা আছে তার। যেখানে অসচ্ছল নারীদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেবেন তিনি। বর্ণা বিশ্বাস করেন, প্রত্যেকেরই আত্মসম্মানের সাথে নিজের পরিচয়ে বাঁচার অধিকার আছে। তবে সে অধিকার কেউ কাউকে দেবে না। অধিকার লড়ে নিতে হবে, অধিকার কেড়ে নিতে হবে

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net