সিইসি হাবিবুল আউয়ালের নিয়োগ কেন অবৈধ ঘোষনা করেছিল আদালত

সিইসি হাবিবুল আউয়ালের নিয়োগ কেন অবৈধ ঘোষনা করেছিল আদালত

নানা তর্ক বিতর্ক জল্পনা কল্পনার মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন দেশের ১৩ তম সিইসি । পাঁচ বছর আগেই সরকারী চাকুরী থেকে অবসর নেওয়া নবনির্বাচিত সিইসি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আইন বিভাগে শিক্ষকতার সাথে জড়িত ছিলেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে কেমন ছিলেন নবনির্বাচিত এই সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল, তার বিভিন্ন হিসাব নিকাশ চলছে ।

দেশের ১৩তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সরকারের সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল। হাবিবুল আউয়াল (৬৬) পাঁচ বছর আগে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের অধ্যাপনা করছিলেন।

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে তার অবসর নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকার পিআরএল বাতিল করে তাকে এক বছরের চুক্তিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়। ২০১৬ সালে চুক্তিটি আরও এক বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছিল। তিনি সিনিয়র সচিব হিসাবে ২০১৭ সালে মন্ত্রণালয় থেকে অবসর নেন। ১৯৯৭ সালে জেলা ও দায়রা জজ পদে উন্নীত হন।

২০০০ সালের ডিসেম্বরে, হাবিবুল আউয়াল আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হন। ২০০৪ সালে তিনি অতিরিক্ত সচিব হন। ২০০৭ সালে তিনি একই মন্ত্রণালয়ে সচিব পদে পদোন্নতি পান। সচিব হওয়ার পর হাবিবুল আউয়াল ২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয়ে ছিলেন। আদালত ২০১০ সালে রায় দেন যে আইন সচিব হিসেবে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার নিয়োগ অবৈধ। নিয়োগের সময় নীতিমালা অনুসরণ না করায় আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে হাবিবুল আউয়ালের নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করেন আদালত।

আইন সচিব থাকা অবস্থায় বিধিবহির্ভূতভাবে দুই বিচারককে অবসরে পাঠানো নিয়েও জটিলতায় জড়িয়েছিলেন হাবিবুল আউয়াল। এ জন্য সংসদীয় কমিটি তাকে তলব করলে তিনি এ ঘটনার জন্য ক্ষমাও চান। এসব ঘটনার পর ২০১০ সালের এপ্রিলে হাবিবুল আউয়ালকে ধর্ম সচিব করা হয়। পরে তাকে সংসদ সচিবালয়ের সচিব করা হয়। ২০১৪ সালে, তাকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়। একই বছর সিনিয়র সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে হাবিবুল আউয়ালের অবসরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকার পিআরএল বাতিল করে তাকে এক বছরের চুক্তিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়। ২০১৬ সালে চুক্তিটি আরও এক বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছিল। তারপর তিনি সিনিয়র সচিব হিসাবে ২০১৭ সালে মন্ত্রণালয় থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

তিন কন্যার জনক হাবিবুল আউয়ালের সাহানা আক্তার খানম নামে স্ত্রী রয়েছে। তিনি বেশ কিছু আত্মজীবনীমূলক বইও প্রকাশ করেছেন। কাজী হাবিবুল আউয়াল ১৯৫৬ সালের ২১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৬ সালে এলএলবি ডিগ্রি এবং ১৯৭৮ সালে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ১৯৮০ সালে বার কাউন্সিলের সার্টিফিকেট পান। একই বছর তিনি ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হন। ১৯৮১ সালে বিসিএস পাস করে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সুপারিশে জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দেন। কাজী হাবিবুল আউয়াল পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে জেলা জজ পদে উন্নীত হন।

কর্মজীবনে কাজী হাবিবুল আউয়াল বাংলাদেশ আইন কমিশনের সচিব এবং শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সহকারী সচিব এবং পরে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ডেপুটেশনে উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, পাকিস্তান, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ড, নেপাল, কানাডা, জাপান, ফ্রান্স, নরওয়ে, সুইডেন, ঘানা, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন এবং হংকং ভ্রমণ করেছেন। ব্যক্তি হিসেবে তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, পুলিশ স্টাফ কলেজ, বাংলাদেশ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং সেন্টার, ফরেন সার্ভিস একাডেমি, জুডিশিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটেও প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net